
জয়পুরহাট জেলা বাংলাদেশ আলু উৎপানকারী ২য় বৃহত্তম জেলা। আলু নির্ভরতায় এ জেলার মানুষ। আলুকে নির্ভর করে গড়ে উঠেছে অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা। হত দরিদ্র মানুষগুলো আলুর চিপস তৈরি করে সারা দেশ সররাহ করছে। এই আলুর চিপস উৎপাদনে অনেকের ভাগ্যও ফিরেছে। মুখরোচক আলুর চিপস উৎপাদনে জয়পুরহাট জেলাই সেরা। এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।
রাস্তায় যখন সকলে ছাতা মাথায় কিংবা বৃষ্টির ভয়ে ঘরের কোণে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন এক ব্যক্তি ভেজা জামা-কাপড়ে ছুটে চলেছেন মাথায় আলুর চিপস নিয়ে। চোখেমুখে ক্লান্তির রেখা, তবুও কোথাও যেন এক অদ্ভুত শক্তির প্রতিচ্ছবি। তিনি আজাদুল—জীবনের কঠিন সংগ্রামে এক অবিচল সৈনিক।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলাার বড়তাড়া ইউনিয়নের ঘোড়শাল গ্রামের মোজাম্মেল হক এর ছেলে আজাদুল ইসলাম বয়স প্রায় চল্লিশ ছুঁইছুঁই। পরিবারের সদস্য ৬ জন স্ত্রী, দুই সন্তান আর বৃদ্ধ বাবা-মা এই ছয়জনের জীবনের ভার কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি বিক্রি করেন আলুর চিপস। স্কুলে পড়ুয়া ছেলেমেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের আরামের কথা ভাবার সময়ই দেন না।
“বৃষ্টি-ঝড় তো থামবে না, কিন্তু পেটের ক্ষুধাও তো থামে না,” বলছিলেন আজাদুল, তার কাঁপা কণ্ঠে দৃঢ়তার ছোঁয়া। “আলুর চিপস বিক্রি, এইটুকুই আমার সম্বল। রোগ-ব্যাধি, কষ্ট সব সয়ে চলতে হয়।”
আজাদুলদের মতো মানুষরাই আমাদের সমাজের অদৃশ্য নায়ক। তারা সেভাবে ক্যামেরার সামনে আসেন না, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হন না। কিন্তু প্রতিদিন যারা সত্যিকারের লড়াই করে বাঁচেন—তাদের গল্প গুলোই আসলে অনুপ্রেরণার উৎস হওয়া উচিত।
যখন অনেকে ছোট সমস্যায় হাল ছেড়ে দেয়, তখন আজাদুলের মতো কেউ কেউ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই করে বাঁচার পথ খুঁজে নেন। তারা স্বপ্ন দেখেন—নিজে না পারলেও সন্তানদের ভালো কিছু দেওয়ার।
আজাদুলের মতো মানুষেরা আমাদের শেখান, জীবন মানেই যুদ্ধ নয়, জীবন মানে সেই যুদ্ধকে গ্রহণ করে এগিয়ে চলা। তারা জানান, যতই ঝড় আসুক, হার না মানার গল্পগুলো শেষ হয় না। সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা অথবা একটু সাহায্যের হাত অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে জীবনের সাথে হার না মানা এসব আজাদুলদের।
























