ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
কোর্ট রিপোর্টারঃ বৃহস্পতিবার ৭ জুলাই ২০২৫
জয়পুরহাট জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মোঃ আরিফুল ইসলাম দুইটি যৌতুকের মামলা মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় মামলার বাদিকে সাজা প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার মামলা দুইটির আসামী পরীক্ষা ও যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য ছিল। সি আর ৩৮/২১ আক্কেলপুর, যৌতুক মামলায় বাদী নুদার সুলতানা লিজা একজন মাস্টার্স পাশ মেয়ে এবং আসামী মাহফুজুর রহমান একজন ইঞ্জিনিয়ার। বাদির আরজি থেকে জানা যায়, আসামী ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং পরে বাদির কোন প্রতার খোঁজ-কবর না নিলে বাদির পিতা বিষযটি সুরাহা করার জন্য আসামীকে ডাকলে বাদীর পিতার বাড়িতে বৈঠকে বসে সেখানেও আসামী ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে।
তবে সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যায়, আসামী বাদীকে নেয়ার জন্য এডিএম কোর্টে ১০০ ধারায় মামলা করেছিল। সেখানে বাদি আসামির সাথে যাবে না বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন এবং বাদী পিতার বাড়িতেই । বাদীকে আসামী লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আপোষ করার জন্য নোটিশ দিলেও বাদী সেখানে উপস্থিত হননি। আসামী বাদীকে তালাক প্রদান করার পরবর্তী তারিখে ঘটনা দেখিয়ে অত্র মামলা করেছে যা বাদির পিতা তার জেরায় স্বীকার করেছেন। সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণে আদালতের নিকট বাদীর দায়ের করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে খালাস প্রদান করা হয় এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য আদালত বাদী নুদার সুলতানা লিজাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।
অপর সি আর ২৭৯/২৩ পাঁচবিবি মামলায় বাদী হানিফা খাতুন আসামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেছিলেন যে, ১ লাখ টাকার জন্য বাদীকে আসামী তার বাড়ি থেকে বের করে দেন। তবে বাদী এই মামলায় তার অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। বাদী যার মাধ্যমে আসামীকে তার বাবার বাড়িতে ডেকেছিলেন বলে নালিশী দরখাস্তে বলেছিলেন তিনি আদালতে জেরায় বলেছেন, তিনি আসামীকে ফোন দিয়ে ডাকেননি। অর্থাৎ বাদি একটা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। বাদীর এই মামলায় বাদীর পিতা ও ভাই সাক্ষী নাই। অথচ বাদীর পিতার বাড়িতেই কথিত সালিশ বৈঠকের কথা বলা হয়েছিল। সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণে আদালতের নিকট বাদীর দায়ের করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে খালাস প্রদান করা হয় এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য আদালত বাদী হানিফা খাতুনকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ১ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।