
ছবিঃ এ্যাডভোকেট মোঃ শামছুল আলম
এ্যাডভোকেট মোঃ শামছুল আলমঃ মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, এটি পারস্পরিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে এবং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরই ধারাবাহিকতায়, জয়পুরহাট জেলা বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, যা প্রাতিষ্ঠানিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিচারক ও আইনজীবীদের এই অংশগ্রহণমূলক খেলাটি শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি পেশাগত সম্পর্ককে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আন্তরিক করে তোলে। উচ্ছ্বাস, উত্তেজনা ও খেলাধুলার চেতনায় ভরপুর এই আয়োজন জেলার ক্রীড়ামোদী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।
আজকের এই পড়ন্ত বিকেলে আইনের জটিল ধারা উপেক্ষা করে, আদালতের গাম্ভীর্য পেছনে ফেলে—মাঠে নামলেন আমাদের বিজ্ঞ বিচারকগণ এবং আইনজীবীবৃন্দ। প্রথাগত গাউন আর কোর্টরুমের রীতি ভুলে, বুট আর জার্সি পরে তাঁরা মুখোমুখি হলেন এক জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচে!
এই ম্যাচ শুধু খেলার নয়—এ এক বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য এবং পেশাদার সম্পর্ককে আরো মজবুত করার অনন্য উদ্যোগ। আজকের খেলায় নেই কোনো আপিল, নেই কোনো শুনানি—এখানে শুধু খেলা, কৌশল আর একে অপরকে জানার আনন্দ!
কে জিতবে—বিচারের পক্ষ, না কি বার? সেটা বড় কথা নয়। আসল কথা হল, সবাই মিলে মজা করাটা!
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন জয়পুরহাটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অনুপ কুমার, উপস্থিত ছিলেন বেগম হাবিবা মন্ডল (জেলা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল, এস এম হুমায়ন কবির অতিঃ জেলা দায়রা জজ ২য় আদালত, শ্যাম সুন্দর রায় চীফ জুডিশীয়াল ম্যাজিস্টট, মোঃ আখতারুজ্জামান ভূইয়া অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত, মোঃ হাসিবুল হক অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতসহ

অন্যান্য বিচারকবৃন্দ ও জয়পুরহাট জেলা সমিতির আইনজীবীবৃন্দ।
৫০ মিনিটের এই খেলা উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অনুপ কুমার। তিনি উদ্বোধনী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, এটি একটি প্রীতি ফুটবল খেলা যে পক্ষই জিতবে তা সহজে মেনে নেয়ার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, সবার বয়স হয়েছে শখে খেলছেন যাতে পেশীতে টান না পরে বা কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অনুপ কুমার ক্যাপটেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারক একাদশে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়বৃন্দ হলেন- অনুপ কুমার, হাসিবুল হক, শ্যাম সুন্দর রায়, আক্তারুজ্জামান, সোহেল রানা, মাহাতাব, রাকিব,ওয়াহেদ, তাজ্জি, আরিফ, মোহন ও হোসেন।
আইনজীবী একাদশে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়বৃন্দ হলেন- জনি, পলাশ-১, পলাশ-২, হাসান, শাহিন, মাসুদ, মুন, নুরে আলম, সালাম ও মওলা।

তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় বিচারক একাদশ ৪-০ গোলে বার একাদশকে পরাজিত করে। খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিচারক একাদশ মাঠের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। খেলা শেষে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অনুপ কুমার বিজয়ী ও বিজিত দলকে পুরস্কার তুলে দেন।


























