
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
মিজানুর রহমান,শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মল্লিকপুর (ঠাকুরপাড়া) গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নারী ও তার পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানী এবং স্বর্ণালঙ্কার- নগদ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম (৪০) বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, কিচক ইউনিয়নের মুল্লিকপুর (ঠাকুরপাড়া) গ্রামের রুহুল আমীন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ পেষী শক্তির জোরে অসহায় বৃদ্ধা মহিলার সাথে কোন কারণ ছাড়াই অশালীন ভাষায় গালাগালি করে।
আরও জানা যায়, সরকারি খাস জমির রাস্তা দখল করে বেষ্টনী দিয়ে আশেপাশের মানুষের চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখাসহ বৃষ্টির পানি নিষ্কাসন এর একমাত্র ড্রেন বন্ধ করে রাখে। দীর্ঘদিনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পরেন বেশ কয়েকটি পরিবার। বিষয়টি নিয়ে বিবাদীদের সাথে ভয়ে কথা বলতে পারেনা।কেউ প্রতিবাদ করলে তারা মারমুখী আচরণ করে এবং প্রানে মারার হুমকি দেয়।
অনেকেই বলেন, আওয়ামীলিগের সক্রিয় কর্মী হওয়ায় তার সাথে ভয়ে কথা বলতে পারিনি, কথা বললেই তাদের বলির পাঠা হতে হয়। রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়,এরকম নজির আছে এলাকার সবাই তাদের বিষয়ে জানেন, এর আগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক বার অভিযোগ করে কোন সমাধাব হয়নি থানা পুলিশ তাদের পক্ষে কাজ করে,কারন তারা টাকা ওয়ালা। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে একই গ্রামের জাহেদ মন্ডলের ছেলে রুহুল আমিন (৩২), খোকা মিয়া (৩৭), মোঃ জাহেদ মন্ডল (৬০), মোঃ রাতুল (২০)সহ আরও ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহানারার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বসতবাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ, মারপিট ও ভাঙচুর চালায়। এতে জাহানারা বেগম, তার ছেলে শাহীন, প্রতিবেশী নুরজাহান বেগম ও নুহু ইসলাম গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা শাহীনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। জাহানারাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং তার প্রতিবেশী নুরজাহানের মুখে আঘাত করে দাঁত ভেঙে দেয়। এছাড়া জাহানারার ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে জাহানারার জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানীরও অভিযোগ উঠেছে।
এসময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন নারী-পুরুষের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিষয়ে বিবাদীদের সাথে কথা বলতে গেলে বাড়ির মেইন দরজায় তালা ঝুলানো থাকায় যোগাযোগ করতে সম্ভব হয়নি। আশেপাশের মানুষের কাছে তাদের বিষয়ে কথা বললে তারা বলেন, বাড়িতে তালা দেওয়া কোথায় গেছে কেউ কিছু বলতে পারে না।
এবিষয়ে বিট অফিসার এসআই মিজানুর রহমান বলেন , বিষয়ে আমার ওপরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বিষয়টি ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার মানুষের মুখে শুনেছি এবং সত্যতা পাওয়া গেছে, বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে মেইন গেটে তালা ঝুলানো ছিল, পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না , তাই বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























