ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্খা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশায় জাতি পুরাতনকে বিতাড়িত করেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন-নতুন ইস্যু আসবেই।
যারা নতুন নতুন ইস্যুতে অস্বস্তিবোধ করে, তারা মূলত নতুন বাংলাদেশ চায় না। তারা আওয়ামী জাহেলিয়া নতুনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাষ্ট্র কাঠামোর যেখানে সংস্কার প্রয়োজন, সেখানেই একটি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। মুখে স্বীকৃতি দিলেই সংস্কার হয়ে যাবে না সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়ে একমত হওয়া, তারপর সেই আলোকে আইন তৈরি করা এবং আইনের বাস্তবতা দেওয়া হলেই সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে। এজন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বারবার জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দাবি গণমানুষের দাবি। যার ফলে দেশের ছোট-বড় প্রায় সব দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবানের দাবি জানিয়ে আসছে।
আজ বুধবার সকাল ১১ টায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় আ.ন.ম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় জুলাই জাতীয় সনদের আইনী ভিত্তি পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় ঘোষিত বগুড়া জেলার শাখার মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হক আজাদ এসব কথা বলেন।
এ সময় আল্লামা আব্দুল হক আজাদ বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের ঘোষণা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। অথচ প্রধান উপদেষ্টা সংস্কার ও বিচারের দৃশ্যমান রূপ না দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যেই রোডম্যাপ দিয়েছেন, সেই রোডম্যাপেই নির্বাচন হতে পারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কোন আপত্তি নাই। তবে অবশ্যই নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে 'তার বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই আলোকে গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। তারপর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে। দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়। একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সব দলও পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনভাবেই দেশের ৭১ শতাংশ জনগনকে এবং ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকে উপেক্ষা করে একটি মাত্র দলের জন্য পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে যেতে পারে না, পারবে না। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতায় পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে না পারলে 'পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট দিতে হবে'। তিনি আরো বলেন, যারা পিআর বুঝে না দাবি করে, তাদের রাষ্ট্র পরিচালন-ার জ্ঞানও নেই। আসলে পিআর পদ্ধতি তারাও বুঝে কিন্তু মেনে নিতে চায় না। কারণ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, অস্ত্রবাজী-কেন্দ্র দখল করতে পারবে না বিধায় তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় না। ভয় আর হতাশায় তারা পিআর মেনে নিতে পারছে না।
সভাপতির বক্তব্যে আ.ন.ম মামুনুর রশীদ বলেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর যেই দায়িত্ব দিতে চায়, এটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি হবে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। যদি নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হয়, তাহলে জাতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
বড় দল দাবি করা দল গণভোটকে ভয় পায় কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারণ তারা জনগণের পক্ষে কথা বলে না, কাজ করে না। তাদের কথা ও কাজ শুধুমাত্র নিজেদের দলীয় স্বার্থে। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাও: আব্দুল মতিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী অধ্যাপক এমদাদুল হক, সহকারী সেক্রটারী অধ্যাপক শাহজাহান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জিয়াউর রহমান জিয়া, ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও: রেজাউল করীম, যুব আন্দোলনের সভাপতি মো: সোহরাব হোসেন, শ্রমিক আন্দোলনের সেক্রেটারী।মো: আবু সাঈদ, ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক-ছাত্র নেতা সোহেল রানা প্রমুখ।