০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

টানা বর্ষণে জয়পুরহাটের কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয়ঃ ধান-আলু-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত

  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • 123

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১লা নভেম্বর ২০২৫

গত তিন দিন ধরে টানা অতি বৃষ্টির ফলে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, কালাই ও সদর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কেবল জমে থাকা পানির দৃশ্য। এতে পাকা ধান, আগাম আলু বপনের জমি, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পানি নামার সুযোগ না পেয়ে ধান ক্ষেতের গোড়ায় পানি জমে গাছ পড়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা, যা ধানের মান ও ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, আগাম আলু ও সবজি চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। সদ্য বপন করা আলুর জমিতে পানি জমে বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ ও রসুনের বীজতলাতেও একই অবস্থা। কৃষকরা বলছেন, একদিকে সার ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়ে গিয়েছিল, তার উপর এই অতিবৃষ্টিতে সব ক্ষতি যেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষেতলালের এক কৃষক বলেন,“আমার দেড় বিঘা জমিতে আগাম আলু দিয়েছি, এখন পুরো জমি পানির নিচে। যদি পানি না নামে, সব বীজ পচে যাবে।”

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা অবহিত হয়েছেন। তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছেন এবং কৃষকদের জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

জেলার কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখনই যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক হয় এবং দ্রুত পানি নেমে যায়, তাহলে কিছু ফসল পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। তবে, অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

টানা বর্ষণে জয়পুরহাটের কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয়ঃ ধান-আলু-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১লা নভেম্বর ২০২৫

গত তিন দিন ধরে টানা অতি বৃষ্টির ফলে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, কালাই ও সদর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কেবল জমে থাকা পানির দৃশ্য। এতে পাকা ধান, আগাম আলু বপনের জমি, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পানি নামার সুযোগ না পেয়ে ধান ক্ষেতের গোড়ায় পানি জমে গাছ পড়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা, যা ধানের মান ও ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, আগাম আলু ও সবজি চাষিরাও পড়েছেন বিপাকে। সদ্য বপন করা আলুর জমিতে পানি জমে বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজ ও রসুনের বীজতলাতেও একই অবস্থা। কৃষকরা বলছেন, একদিকে সার ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়ে গিয়েছিল, তার উপর এই অতিবৃষ্টিতে সব ক্ষতি যেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষেতলালের এক কৃষক বলেন,“আমার দেড় বিঘা জমিতে আগাম আলু দিয়েছি, এখন পুরো জমি পানির নিচে। যদি পানি না নামে, সব বীজ পচে যাবে।”

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা অবহিত হয়েছেন। তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছেন এবং কৃষকদের জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

জেলার কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখনই যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক হয় এবং দ্রুত পানি নেমে যায়, তাহলে কিছু ফসল পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। তবে, অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।