
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ ৩ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রবিবার (৩ নভেম্বর) জয়পুরহাট ২ আসনে মোঃ আব্দুল বারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সচিব ও ঢাকা বিভাগের সাবেক কমিশনার আব্দুল বারী।
ফিরে দেখাঃ
রাজনৈতিক কার্যক্রম ও গতিপ্রবাহঃ
মনোনয়ন প্রাপ্তি
৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় জয়পুরহাট-২ আসনে আব্দুল বারীর নাম ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৩৪টি আসনের মধ্যে এই মনোনয়ন এক বিশেষ দৃষ্টান্ত।
মাঠ-পর্যায়ের কার্যক্রমঃ
গত অক্টোবর তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জনসমাবেশে অংশ নেন এবং বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি অঙ্গিকার বিষয়ক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, নব্বইয়ের দশকে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিক সভায় অংশ নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বাণী ও অঙ্গীকারঃ
তিনি বক্তব্য দিয়েছেন, “মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা একসাথে”।
উল্লেখ করেছেন, বিএনপি “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুমের রাজনীতি করে না”–এবং “রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে”।
দায়িত্ব-প্রেক্ষাপটঃ
প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে তিনি জেলা প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে সচিব হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকায় সাধারণ মতে তাঁর উপর এলাকায় যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালনায় দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে।
আশা ও চ্যালেঞ্জঃ
প্রশাসনিক পটভূমি ও প্রশাসন-সচিবালয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতি ও স্থানীয় সংগঠন ঘাঁটাই কাজে সহায়ক হতে পারে।
মনোনয়নের ঘোষণা জনমুখে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং জনসভায় ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে রয়েছেন, যেটি মনোনয়ন ও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যালেঞ্জসমূহঃ
জয়পুরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা শক্তিশালী, স্থানীয় সংগঠন সক্রিয় এবং ভোটের ধরনও নির্বাচনে বারবার পরিবর্তনশীল।
বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও দলীয় অভ্যন্তরীন সমন্বয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রশাসনিক পরিবেশ থেকে রাজনৈতিক পরিবেশে রূপান্তর সহজ নয় — দলীয় সংগঠন ও কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ সময়সাপেক্ষ।
ভোটাররা সাধারণত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন; তাই শুধু নাম বা অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়, মাঠ-কার্যক্রম ত্বরান্বিত হওয়া জরুরি।
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনাঃ
এলাকায় তিনি অংশ নিচ্ছেন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় — যেমন কালাই উপজেলা ও ক্ষেতলাল-আক্কেলপুরে।
লিফলেট বিতরণ ও সভা-সংগঠন মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি কার্যকর করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
মনোনয়ন ঘোষণা ঠিক হবার পর থেকে মাঠ-প্রচারণা দ্রুত ত্বরান্বিত হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য ইতিবাচক।
আব্দুল বারী একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও নতুন রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণকারী নেতা। তার মনোনয়ন জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির জন্য একটি শক্তিশালী সাইন বোর্ড হতে পারে। তবে মাঠ-সংগ্রাম ও স্থানীয় সংগঠন ঘাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সময় ও তৎপরতা দিব্যি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভোটারদের কাছে তার প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম কতটা স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সেটিই আগামী নির্বাচনী ফলাফলের কাঁটা হয়ে থাকবে।


























