০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রী লাঞ্ছিত, অভিযুক্ত হেড বুকিং সহকারী

  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • 118

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস—ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ৬ নভেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ নামে এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই যাত্রী। আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুর রাজ্জাক দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে জয়পুরহাট স্টেশনের কাউন্টারে যান। তিনি ২০০ টাকার নোট দিলে কাউন্টারের কর্মী খুচরা টাকা দিতে বলেন। খুচরা না থাকায় ওই যাত্রী কিছুটা সময় চান। এসময় হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুন খুচরা টাকা আনার তাগিদ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরুল করিম কাউন্টার থেকে বেরিয়ে এসে যাত্রীকে ধাক্কা দেন এবং পরে অফিস কক্ষে টেনে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

লাঞ্ছনার সময় যাত্রীর শার্ট ছিঁড়ে গেলে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন এবং উভয়কে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে নিয়ে যান। পরে মনিরুল করিম মুন নিজ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগী যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুন আমাকে টেনে অফিসে নিয়ে গিয়ে লাঞ্ছিত করেন। আমার শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে সাংবাদিকরা এলে তিনি ভুল স্বীকার করেন। সে স্থানীয় হওয়ায় দাম্ভিকতার সঙ্গে আচরণ করেছে। আমি চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”

অভিযুক্ত মনিরুল করিম মুন বলেন, “খুচরা টাকা না থাকা নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তিনি আমাকে গালাগালি করলে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়, তবে আমি টেনে নিয়ে যাইনি। বিষয়টি পরে মীমাংসা হয়েছে।”

জয়পুরহাট রেলস্টেশনের মাস্টার রফিক চৌধুরী বলেন, “বাকবিতণ্ডার সময় ঠেলাঠেলি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে যাত্রীকে ধাক্কা দেওয়া বা লাঞ্ছনার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা অবশ্যই অপরাধ। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। যাত্রী লাঞ্ছনার মতো অভিযোগ পেলে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রী লাঞ্ছিত, অভিযুক্ত হেড বুকিং সহকারী

প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস—ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ৬ নভেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ নামে এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই যাত্রী। আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুর রাজ্জাক দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে জয়পুরহাট স্টেশনের কাউন্টারে যান। তিনি ২০০ টাকার নোট দিলে কাউন্টারের কর্মী খুচরা টাকা দিতে বলেন। খুচরা না থাকায় ওই যাত্রী কিছুটা সময় চান। এসময় হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুন খুচরা টাকা আনার তাগিদ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরুল করিম কাউন্টার থেকে বেরিয়ে এসে যাত্রীকে ধাক্কা দেন এবং পরে অফিস কক্ষে টেনে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

লাঞ্ছনার সময় যাত্রীর শার্ট ছিঁড়ে গেলে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন এবং উভয়কে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে নিয়ে যান। পরে মনিরুল করিম মুন নিজ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগী যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে হেড বুকিং সহকারী মনিরুল করিম মুন আমাকে টেনে অফিসে নিয়ে গিয়ে লাঞ্ছিত করেন। আমার শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে সাংবাদিকরা এলে তিনি ভুল স্বীকার করেন। সে স্থানীয় হওয়ায় দাম্ভিকতার সঙ্গে আচরণ করেছে। আমি চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”

অভিযুক্ত মনিরুল করিম মুন বলেন, “খুচরা টাকা না থাকা নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তিনি আমাকে গালাগালি করলে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়, তবে আমি টেনে নিয়ে যাইনি। বিষয়টি পরে মীমাংসা হয়েছে।”

জয়পুরহাট রেলস্টেশনের মাস্টার রফিক চৌধুরী বলেন, “বাকবিতণ্ডার সময় ঠেলাঠেলি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে যাত্রীকে ধাক্কা দেওয়া বা লাঞ্ছনার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা অবশ্যই অপরাধ। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। যাত্রী লাঞ্ছনার মতো অভিযোগ পেলে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”