০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রতিবন্ধী লাইজুর জীবনের জয়যাত্রা

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • 69

হুইলচেয়ারে বসে লড়ছেন জীবনের সঙ্গে, অনুপ্রেরণার প্রতীক এই নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাটঃ ৬ নভেম্বর ২০২৫

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী লাইজু। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা তার জীবনের পথরোধ করতে পারেনি। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে জন্ম নেওয়া লাইজু এখন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগজানার চৌমুহনী মোড়ে দৃঢ়চেতা এক নারী হিসেবে সকলের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।

লাইজুর বিয়ে হয় একই এলাকার সাইকেল মেকার কোনা মিয়ার সঙ্গে। স্বামীর আগের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছোট সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্বে নামেন তিনি। দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধকতার মাঝেও লাইজু হাল ছাড়েননি। হাঁটাচলা করতে না পারলেও ভ্যানযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে লবণ, চিনি, কসমেটিকস ও কাপড় সংগ্রহ করে পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট শহরে বিক্রি করেছেন তিনি।

স্বামীর আয় ও নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের বড় করেছেন, বিয়ে দিয়েছেন। সতীনের সন্তানদেরও সমানভাবে দেখভাল করেছেন। পরে স্বামী মারা গেলে জীবনের বোঝা আরও বেড়ে যায়, কিন্তু লাইজু তখনও হার মানেননি।

বর্তমানে তিনি আটাপাড়া বেলী ব্রিজের নিচে ছোট্ট একটি টঙ দোকান চালান। এখান থেকেই নিজের খাবার ও খরচের যোগান দেন তিনি। হাঁটতে না পারায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত এক দয়ালু যুবক তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন।

লাইজুর ভাষায়, “মানুষ চায় অন্যের সহানুভূতি, আমি চেয়েছি নিজের পরিশ্রমে বাঁচতে। আল্লাহ ভরসা দিলে সবই সম্ভব।”

লাইজুর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন সাহস ও আত্মনির্ভরতার প্রতিচ্ছবি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি প্রমাণ করেছেন— প্রতিবন্ধকতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই পারে জীবনের পথ বদলে দিতে।

 

জনপ্রিয়

সাপাহারে নার্স-মিডওয়াইফদের প্রতীকি শাটডাউন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

প্রতিবন্ধী লাইজুর জীবনের জয়যাত্রা

প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

হুইলচেয়ারে বসে লড়ছেন জীবনের সঙ্গে, অনুপ্রেরণার প্রতীক এই নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাটঃ ৬ নভেম্বর ২০২৫

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী লাইজু। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা তার জীবনের পথরোধ করতে পারেনি। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে জন্ম নেওয়া লাইজু এখন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগজানার চৌমুহনী মোড়ে দৃঢ়চেতা এক নারী হিসেবে সকলের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।

লাইজুর বিয়ে হয় একই এলাকার সাইকেল মেকার কোনা মিয়ার সঙ্গে। স্বামীর আগের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছোট সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্বে নামেন তিনি। দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধকতার মাঝেও লাইজু হাল ছাড়েননি। হাঁটাচলা করতে না পারলেও ভ্যানযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে লবণ, চিনি, কসমেটিকস ও কাপড় সংগ্রহ করে পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট শহরে বিক্রি করেছেন তিনি।

স্বামীর আয় ও নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের বড় করেছেন, বিয়ে দিয়েছেন। সতীনের সন্তানদেরও সমানভাবে দেখভাল করেছেন। পরে স্বামী মারা গেলে জীবনের বোঝা আরও বেড়ে যায়, কিন্তু লাইজু তখনও হার মানেননি।

বর্তমানে তিনি আটাপাড়া বেলী ব্রিজের নিচে ছোট্ট একটি টঙ দোকান চালান। এখান থেকেই নিজের খাবার ও খরচের যোগান দেন তিনি। হাঁটতে না পারায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত এক দয়ালু যুবক তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন।

লাইজুর ভাষায়, “মানুষ চায় অন্যের সহানুভূতি, আমি চেয়েছি নিজের পরিশ্রমে বাঁচতে। আল্লাহ ভরসা দিলে সবই সম্ভব।”

লাইজুর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন সাহস ও আত্মনির্ভরতার প্রতিচ্ছবি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি প্রমাণ করেছেন— প্রতিবন্ধকতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই পারে জীবনের পথ বদলে দিতে।