ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ শনিবার ১৫ নভেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ১৫ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি, ফ্রি ডায়াবেটিক ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতি।
ডায়াবেটিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন রোগী শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আগত মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ফ্রি ক্যাম্পেইনে প্রায় শতাধিক মানুষ ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান। অনেক নতুন রোগীর ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা পরামর্শ ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। স্থানীয় চিকিৎসক, ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিনব্যাপী কার্যক্রম আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জয়পুরহাট-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী জনাব আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, “ডায়াবেটিস বর্তমানে নীরব ঘাতক হিসেবে বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানুষকে সচেতন করা, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতি মানবিক দায়িত্ব থেকেই আমি এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ভৌগোলিক পরিচয় নয়—মানবিক সেবাই বড় পরিচয় হওয়া উচিত। তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বক্তারা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
র্যালিটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, তবে সচেতনতার বার্তাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
দিনব্যাপী এই মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য স্থানীয় জনগণের মাঝে সন্তোষ প্রকাশ দেখা যায়। আগতরা জানান, বছরে অন্তত কয়েকবার এমন স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প আয়োজন করলে গ্রামের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং রোগ সম্পর্কে দ্রুত সচেতন হতে পারবে।