
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
গণভোটের তারিখ নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ— শিবিরের প্রীতি সমাবেশে তীব্র সমালোচনা, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
জয়পুরহাটে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী–সদস্যদের প্রীতি সমাবেশে অংশ নিয়ে ঢাকা পল্টন থানা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেছেন, “চাঁদাবাজদেরকে বাংলার জনগণ আর গ্রহণ করবে না। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট নির্ধারণ— এটি জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।”
শনিবার সকালে স্থানীয় সপ্নছোয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ দলের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদ ২৪-এর চেতনা ভুলে শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে যুবসমাজকে বিপথে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “জাতি আশা করেছিল খুনি হাসিনাসহ আওয়ামী দোসরদের দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার এখনও আলোর মুখ দেখেনি। জনগণ সেই রায়ের অপেক্ষায় আছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্নে নানামুখী ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে পুনরায় অস্থিতিশীল করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। জাতি গঠনে ছাত্রশিবির সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখে এসেছে উল্লেখ করে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সাবেক সাথী–সদস্যদের মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অতিথিদের উপস্থিতি
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তারেক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— জেলা জামায়াতের আমীর ও জয়পুরহাট–১ আসনের জামায়াত–মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী জোন পরিচালক ও শিবিরের প্রথম সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুস সবুর, রাজশাহী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য ও শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি আহমদ উল্লাহ।
সঞ্চালনায় ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য দেন সাবেক জেলা সভাপতি হাসিবুল আলম লিটন, জয়পুরহাট–২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম সবুজ, এ্যাডভোকেট আসলাম হোসেন, আল ইমরান হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আবু জার গিফারী, মাওলানা সাজেদুর রহমান সাজু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, সাবেক ছাত্র নেতা মামুনুর রশীদ পাটোয়ারী, শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী ও ফজলে রাব্বী।
সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি
প্রায় পাঁচ শতাধিক সাবেক সাথী–সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলটি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা আগামীর রাজনীতি, সংগঠন শক্তিশালীকরণ ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করণীয় বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।






















