০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁয় ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

  • প্রকাশের সময় : ০২:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • 84

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত দুই সদস্য—এসআই মামুন হোসেন ও এএসআই মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও জাল টাকা সংক্রান্ত অভিযানে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনার সূত্র ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় মহল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ জুন শহরের গোস্তহাটি মোড় এলাকা থেকে রানা কারী নামে এক ব্যক্তিকে জাল টাকাসহ আটক করে ডিবি। রানার তথ্য অনুযায়ী সুলতান ও সান্তাহারের জব্বার হোসেনকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—জব্বারের পরিবারকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সুলতানের অভিযোগ, তাকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দুই ধাপে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রানা জামিনে বের হয়ে পুনরায় জাল টাকার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন।

গত সেপ্টেম্বর নিয়ামতপুরের ছাতরা এলাকা থেকে আমিনুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অভিযোগ, ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধারের দাবি থাকলেও মামলা দেওয়া হয় ১০০ পিস দেখিয়ে। ভুক্তভোগীর দাবি—এই ‘মাদক কম দেখানো’র বিনিময়ে ১৬ হাজার টাকা নেয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়, যা ফেরত দিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

২৮ মার্চ মহাদেবপুরে মেরিনা আকতারের বাড়ির সামনে থেকে চারজনকে ইয়াবা, হেরোইন ও সিএনজি অটোরিকশাসহ আটক করা হয়। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মামলায় কম পরিমাণ মাদক দেখানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার অংশের একটি অংশ পরবর্তীতে ‘সোর্সের মাধ্যমে বিক্রি’ করা হয়—যদিও এই বিষয়ে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এটি সম্পূর্ণই স্থানীয়দের অভিযোগ।

মেরিনা আকতার জানান—আটক ব্যক্তিরা তার বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন। তবে তার প্রতিবেশীর দাবি—মাদক কেনার কথা বলে তাদের সেখানে আনা হয়েছিল এবং পরে ডিবি তাদের আটক করে।

৭ এপ্রিল নুনিয়া পট্টিতে দুই মাদকসেবীকে আটকের পর জাকিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক ও টাকা উদ্ধারের কথা জানা যায়। অভিযোগ—মামলায় না জড়ানোর শর্তে ১ লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে তার নাম মামলায় যুক্ত করা হয়।

১৯ এপ্রিল মহাদেবপুরের খোর্দ্দনারায়নপুরে মোটরসাইকেল থামিয়ে দুইজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—পলাতক এক অভিযুক্তের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর উদ্ধার ইয়াবার সংখ্যা কম দেখানো হয়।

২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বদলগাছীতে ফেনসিডিলসহ তিনজনকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা। সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়, যদিও প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।

অভিযুক্তদের বক্তব্য এএসআই মুকুল হোসেন বলেন, “এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। মামলার বাদী এসআই মামুন হোসেন—তার সাথে কথা বলুন।”

এসআই মামুন হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন—“সব অভিযোগ মিথ্যা। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদক কম দেখানো হয়নি।”

ডিবির সাবেক ওসির বক্তব্য- ডিবির সাবেক ওসি (বর্তমানে পোরশা থানার ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলোর সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। মোটরসাইকেল জব্দের বিষয়ে তিনি জানান— “এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় জিডি করে রাখা হয়েছিল।”
তবে বিষয়টি অবগত করার পর মোটরসাইকেলটি দ্রুত ডিবি অফিস থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

পুলিশ সুপারের অবস্থান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন—
“অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমাদের বাহিনীর নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বিধি মোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”

উত্থাপিত একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

নওগাঁয় ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

প্রকাশের সময় : ০২:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৯ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত দুই সদস্য—এসআই মামুন হোসেন ও এএসআই মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও জাল টাকা সংক্রান্ত অভিযানে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনার সূত্র ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় মহল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ জুন শহরের গোস্তহাটি মোড় এলাকা থেকে রানা কারী নামে এক ব্যক্তিকে জাল টাকাসহ আটক করে ডিবি। রানার তথ্য অনুযায়ী সুলতান ও সান্তাহারের জব্বার হোসেনকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—জব্বারের পরিবারকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সুলতানের অভিযোগ, তাকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দুই ধাপে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, রানা জামিনে বের হয়ে পুনরায় জাল টাকার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন।

গত সেপ্টেম্বর নিয়ামতপুরের ছাতরা এলাকা থেকে আমিনুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অভিযোগ, ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধারের দাবি থাকলেও মামলা দেওয়া হয় ১০০ পিস দেখিয়ে। ভুক্তভোগীর দাবি—এই ‘মাদক কম দেখানো’র বিনিময়ে ১৬ হাজার টাকা নেয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়, যা ফেরত দিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

২৮ মার্চ মহাদেবপুরে মেরিনা আকতারের বাড়ির সামনে থেকে চারজনকে ইয়াবা, হেরোইন ও সিএনজি অটোরিকশাসহ আটক করা হয়। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মামলায় কম পরিমাণ মাদক দেখানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার অংশের একটি অংশ পরবর্তীতে ‘সোর্সের মাধ্যমে বিক্রি’ করা হয়—যদিও এই বিষয়ে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এটি সম্পূর্ণই স্থানীয়দের অভিযোগ।

মেরিনা আকতার জানান—আটক ব্যক্তিরা তার বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন। তবে তার প্রতিবেশীর দাবি—মাদক কেনার কথা বলে তাদের সেখানে আনা হয়েছিল এবং পরে ডিবি তাদের আটক করে।

৭ এপ্রিল নুনিয়া পট্টিতে দুই মাদকসেবীকে আটকের পর জাকিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক ও টাকা উদ্ধারের কথা জানা যায়। অভিযোগ—মামলায় না জড়ানোর শর্তে ১ লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে তার নাম মামলায় যুক্ত করা হয়।

১৯ এপ্রিল মহাদেবপুরের খোর্দ্দনারায়নপুরে মোটরসাইকেল থামিয়ে দুইজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে—পলাতক এক অভিযুক্তের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর উদ্ধার ইয়াবার সংখ্যা কম দেখানো হয়।

২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বদলগাছীতে ফেনসিডিলসহ তিনজনকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা। সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়, যদিও প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।

অভিযুক্তদের বক্তব্য এএসআই মুকুল হোসেন বলেন, “এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। মামলার বাদী এসআই মামুন হোসেন—তার সাথে কথা বলুন।”

এসআই মামুন হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন—“সব অভিযোগ মিথ্যা। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদক কম দেখানো হয়নি।”

ডিবির সাবেক ওসির বক্তব্য- ডিবির সাবেক ওসি (বর্তমানে পোরশা থানার ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলোর সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। মোটরসাইকেল জব্দের বিষয়ে তিনি জানান— “এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় জিডি করে রাখা হয়েছিল।”
তবে বিষয়টি অবগত করার পর মোটরসাইকেলটি দ্রুত ডিবি অফিস থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

পুলিশ সুপারের অবস্থান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন—
“অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমাদের বাহিনীর নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বিধি মোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”

উত্থাপিত একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।