০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

সাপাহারে ভূগর্ভস্থ পানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা: জলবায়ু মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে শুভসংঘের আলোচনা সভা

  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • 109

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁর বরেন্দ্র অধ্যুষিত সাপাহার উপজেলায় ক্রমবর্ধমান শুষ্কতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং সেচের তীব্র সংকট মোকাবেলায় “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সাপাহার প্রেসক্লাবে বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার আয়োজনে এ আলোচনা সভা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম। এতে স্থানীয় শিক্ষক, কৃষক প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষার্থীসহ শুভসংঘের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বক্তারা জানান, নওগাঁর ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহারে গত কয়েক বছরে বর্ষার বৃষ্টি কমেছে প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ। অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ স্থাপন, জলাধার না থাকা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় বিলুপ্তির ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ৭ থেকে ১২ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে বহু গভীর নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

কৃষক প্রতিনিধিরা জানান, পানির অভাবে বোরো মৌসুমে ধানের জমিতে ফাটল ধরে, আমবাগান ও সবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয় এবং গবাদিপশুর খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। নদী-খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্থানীয় জীবনযাত্রা, কৃষি ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার-পোরশা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি তছলিম উদ্দীন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার জীবনে পড়ছে। সাপাহারকে শুষ্কতার দুষ্টচক্র থেকে বের করতে হলে সচেতনতা ও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি।” তিনি নবীন প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও পানি অপচয় রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, নওগাঁর স্থানীয় সংগঠন বরেন্দ্র ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (বিডিও) গত ৩৪ বছর ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলের দারিদ্র্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ করছে এবং ২০১৪ সাল থেকে জলবায়ু ও কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে।

সভায় সাপাহারের জলসংকট মোকাবেলায় ৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়:

১. বাড়ি-অফিস-স্কুলে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং বাধ্যতামূলক করা
২. পুকুর, খাল, বিল পুনঃখনন ও রাস্তার পাশে রিচার্জ পিট তৈরি
৩. বোরোর পরিবর্তে কম পানি লাগে এমন ফসল ও খরা সহনশীল ধান (ব্রি ধান–৫৬, ৫৭) চাষে উৎসাহ
৪. আমবাগানে স্মার্ট সেচ ও জৈব সারের ব্যবহার
৫. বিএমডিএ’র অধীনে আরও গভীর নলকূপ স্থাপন ও সমবায় সেচ প্রকল্পে ভর্তুকি বৃদ্ধি
৬. স্কুল–কলেজে জলবায়ু শিক্ষা ক্লাব গঠন এবং মাসিক স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি আয়োজন

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাংবাদিক তছলিম উদ্দীন, শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনছারী, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক বাবুল আকতারসহ স্থানীয় সাবেক শিক্ষকেরা।

সভা শেষে সাপাহারকে জলবায়ুবান্ধব অঞ্চলে রূপান্তরে সমন্বিত উদ্যোগ এবং শীত ও রমজান উপলক্ষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

সাপাহারে ভূগর্ভস্থ পানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা: জলবায়ু মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে শুভসংঘের আলোচনা সভা

প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁর বরেন্দ্র অধ্যুষিত সাপাহার উপজেলায় ক্রমবর্ধমান শুষ্কতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং সেচের তীব্র সংকট মোকাবেলায় “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সাপাহার প্রেসক্লাবে বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার আয়োজনে এ আলোচনা সভা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার শাখার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম। এতে স্থানীয় শিক্ষক, কৃষক প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষার্থীসহ শুভসংঘের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বক্তারা জানান, নওগাঁর ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহারে গত কয়েক বছরে বর্ষার বৃষ্টি কমেছে প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ। অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ স্থাপন, জলাধার না থাকা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় বিলুপ্তির ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ৭ থেকে ১২ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে বহু গভীর নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

কৃষক প্রতিনিধিরা জানান, পানির অভাবে বোরো মৌসুমে ধানের জমিতে ফাটল ধরে, আমবাগান ও সবজি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয় এবং গবাদিপশুর খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। নদী-খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্থানীয় জীবনযাত্রা, কৃষি ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ সাপাহার-পোরশা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি তছলিম উদ্দীন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবার জীবনে পড়ছে। সাপাহারকে শুষ্কতার দুষ্টচক্র থেকে বের করতে হলে সচেতনতা ও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি।” তিনি নবীন প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও পানি অপচয় রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, নওগাঁর স্থানীয় সংগঠন বরেন্দ্র ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (বিডিও) গত ৩৪ বছর ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলের দারিদ্র্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কাজ করছে এবং ২০১৪ সাল থেকে জলবায়ু ও কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে।

সভায় সাপাহারের জলসংকট মোকাবেলায় ৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়:

১. বাড়ি-অফিস-স্কুলে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং বাধ্যতামূলক করা
২. পুকুর, খাল, বিল পুনঃখনন ও রাস্তার পাশে রিচার্জ পিট তৈরি
৩. বোরোর পরিবর্তে কম পানি লাগে এমন ফসল ও খরা সহনশীল ধান (ব্রি ধান–৫৬, ৫৭) চাষে উৎসাহ
৪. আমবাগানে স্মার্ট সেচ ও জৈব সারের ব্যবহার
৫. বিএমডিএ’র অধীনে আরও গভীর নলকূপ স্থাপন ও সমবায় সেচ প্রকল্পে ভর্তুকি বৃদ্ধি
৬. স্কুল–কলেজে জলবায়ু শিক্ষা ক্লাব গঠন এবং মাসিক স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি আয়োজন

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাংবাদিক তছলিম উদ্দীন, শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনছারী, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক বাবুল আকতারসহ স্থানীয় সাবেক শিক্ষকেরা।

সভা শেষে সাপাহারকে জলবায়ুবান্ধব অঞ্চলে রূপান্তরে সমন্বিত উদ্যোগ এবং শীত ও রমজান উপলক্ষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।