
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
রিফাত হোসেন মেশকাত, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ২৮ নভেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সদর রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটটিতে উঁচু–নিচু সড়কের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুই বছর আগে রেল সংস্কারের সময় রেললাইনের অংশে পাকা রাস্তা তুলে ফেলার পর থেকেই ওই স্থানে তৈরি হওয়া উঁচু-নিচু স্থানে ছোট যানবাহন উল্টে যাওয়া, রোগী ও যাত্রীদের আঘাত পাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডবল রেললাইন হবে—এমন আশ্বাসে সময় পার করলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় ভ্যানচালক মুমিনুল হক জানান, সংস্কারের পর থেকে ওই স্থানে প্রতিনিয়তই ভ্যান, অটোভ্যানসহ ছোট যানবাহন যাত্রী নিয়ে উল্টে যাচ্ছে। রেলগেট পার হওয়ার সময় ধাক্কায় রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পথচারীদের ধাক্কা, মালামাল নষ্ট হওয়া, এমনকি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।
বিহারপুর গ্রামের অটোভ্যানচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “রেলগেটের দুই পাশের সড়ক ঠিক থাকলেও রেললাইনের অংশটি দীর্ঘদিন ধরে উঁচু-নিচু। এ কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে–রাতে প্রায় ২০–২৫টি ট্রেন চলাচল করে, তখন যানজট তৈরি হয়। ভিড়ের মাঝে এই উঁচু-নিচু অংশ পার হতে গিয়েই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।”
পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা বলেন, “আক্কেলপুর রেলগেট একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান। পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ প্রতিদিন এই রেলগেট ব্যবহার করেন। উঁচু-নিচু রাস্তা নতুন দুর্ভোগ তৈরি করেছে। রেলগেট পার হতে গিয়েই দুর্বল মানুষ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দ্রুত সমান করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
উপজেলা কর্মকর্তা আবিদা খনম বৈশাখী বলেন, “সড়ক সংস্কারের সময় রাস্তা উঁচু করা হয়, কিন্তু রেলের অংশের পাকা তুলে ফেলার কারণে যে উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে তা এখন মানুষের ভোগান্তির কারণ। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
আক্কেলপুর রেল স্টেশন মাস্টার খাতিজা খাতুন জানান, প্রতিদিনই রেলগেটের উঁচু-নিচু অংশের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে মাছবাহী যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির পানি পড়ে রাস্তা আরও বেহাল হয়। তিনি বলেন, “কয়েকবার ইটের খোয়া দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এক জায়গায় রেললাইন উঁচু করা সম্ভব নয়। ডবল লাইন স্থাপনের সময় এটি সমান করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ডবল লাইনের অপেক্ষা না করে এখনই রেলগেটের উঁচু–নিচু অংশটি সমান করে জনদুর্ভোগ কমানো জরুরি।












