০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

৪ দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন, পরীক্ষা দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 52

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাট সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা ৪ দফা দাবীতে কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে চলমান পরীক্ষাগুলোতে সোমবার থেকে পরীক্ষা দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

সরজমিনে আজ দুই ডিসেম্বর স্কুলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষকরা তাদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনের মতো চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফজলুল হক বলেন, আমাদের এই কর্মবিরতি হল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ। ইতিপূর্বে আমাদের যুক্তিসংগত দাবিগুলো নিয়ে সরকারকে অবহিত করেছি কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সম্প্রতি আমাদের একটি টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড অনেকদিনর বকেয়া ছিল। সে বিষয়ে হাইকোর্টের রিট করে আমরা রায় পেয়েছি। কিন্তু গত সাত মাসেও সেটি আমরা এখনো পাইনি। আজকে সারাদেশে ১৫% প্রধান শিক্ষক আছে আর বাকি ৮৫% সব প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অথচ আমরা প্রমোশন পাচ্ছি না আমরা শুধু মাত্র সহকারী শিক্ষক থেকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাই এবং এটাই শেষ। আমরা আজ বৈষম্যের শিকার।

জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাহিদ ফেরদৌস বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের যে ৪ দফা দাবি তা আদায়ের জন্য সকল কর্মকান্ড পরীক্ষা, ভর্তি সব বন্ধ রেখে আন্দোলনে রয়েছি। আশা করছি আমাদের যৌক্তিক দাবি সরকার মেনে নিবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার ১৯৭৭ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের “সহকারী শিক্ষক” (অতিরিক্ত যোগ্যতা বি এড) দশম গ্রেড পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (অতিরিক্ত যোগ্যতা বি, এড) দশম গ্রেড, থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ১১তম গ্রেড, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ১১তম গ্রেড সাব রেজিস্টার ১১তম গ্রেট ছিল কিন্তু পিটিআই ইন্সপেক্টর ১৯৯৭ সালে নবম গ্রেডে উন্নীত, থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ১৯৯১ সালে ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে এবং ১৯৯৭ সালের নবম গ্রেডে উন্নীত, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ১৯৯৫ সালে ১১ তম গ্রেড থেকে দশম এবং ১৯৯১ সালে দশম গ্রেডে থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত হয় কিন্তু আমরা একই অবস্থানে আছি। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটা আমাদের কাম্য নয়। প্রয়োজনে আমরা শীতকালীন ছুটি না নিয়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নিব।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের চার দফা দাবী সমূহঃ ১. পৃথক অভিদপ্তরে শিক্ষকদের এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড ধরে ৪ স্তর বিশিষ্ট পদসোপন।
২. বকেয়া টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড প্রদান।
৩. দীর্ঘদিন প্রমোশন বঞ্চিত যোগ্য শিক্ষকগণের দ্রুত প্রমোশনের ব্যবস্থা করা।
৪. অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য অ্যাডভান্সড ইনক্রিমেন্ট আগের মত বহাল রাখা।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

৪ দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন, পরীক্ষা দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাট সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা ৪ দফা দাবীতে কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে চলমান পরীক্ষাগুলোতে সোমবার থেকে পরীক্ষা দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

সরজমিনে আজ দুই ডিসেম্বর স্কুলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষকরা তাদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনের মতো চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফজলুল হক বলেন, আমাদের এই কর্মবিরতি হল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ। ইতিপূর্বে আমাদের যুক্তিসংগত দাবিগুলো নিয়ে সরকারকে অবহিত করেছি কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সম্প্রতি আমাদের একটি টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড অনেকদিনর বকেয়া ছিল। সে বিষয়ে হাইকোর্টের রিট করে আমরা রায় পেয়েছি। কিন্তু গত সাত মাসেও সেটি আমরা এখনো পাইনি। আজকে সারাদেশে ১৫% প্রধান শিক্ষক আছে আর বাকি ৮৫% সব প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অথচ আমরা প্রমোশন পাচ্ছি না আমরা শুধু মাত্র সহকারী শিক্ষক থেকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাই এবং এটাই শেষ। আমরা আজ বৈষম্যের শিকার।

জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাহিদ ফেরদৌস বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের যে ৪ দফা দাবি তা আদায়ের জন্য সকল কর্মকান্ড পরীক্ষা, ভর্তি সব বন্ধ রেখে আন্দোলনে রয়েছি। আশা করছি আমাদের যৌক্তিক দাবি সরকার মেনে নিবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার ১৯৭৭ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের “সহকারী শিক্ষক” (অতিরিক্ত যোগ্যতা বি এড) দশম গ্রেড পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (অতিরিক্ত যোগ্যতা বি, এড) দশম গ্রেড, থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ১১তম গ্রেড, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ১১তম গ্রেড সাব রেজিস্টার ১১তম গ্রেট ছিল কিন্তু পিটিআই ইন্সপেক্টর ১৯৯৭ সালে নবম গ্রেডে উন্নীত, থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ১৯৯১ সালে ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে এবং ১৯৯৭ সালের নবম গ্রেডে উন্নীত, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ১৯৯৫ সালে ১১ তম গ্রেড থেকে দশম এবং ১৯৯১ সালে দশম গ্রেডে থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত হয় কিন্তু আমরা একই অবস্থানে আছি। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটা আমাদের কাম্য নয়। প্রয়োজনে আমরা শীতকালীন ছুটি না নিয়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নিব।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের চার দফা দাবী সমূহঃ ১. পৃথক অভিদপ্তরে শিক্ষকদের এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড ধরে ৪ স্তর বিশিষ্ট পদসোপন।
২. বকেয়া টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড প্রদান।
৩. দীর্ঘদিন প্রমোশন বঞ্চিত যোগ্য শিক্ষকগণের দ্রুত প্রমোশনের ব্যবস্থা করা।
৪. অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য অ্যাডভান্সড ইনক্রিমেন্ট আগের মত বহাল রাখা।