
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
কারখানা সিলগালা, জব্দ ও ধ্বংস করা হলো সব উপকরণ
এ.বি.এস রতন, স্টাফ রিপোর্টারঃ সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
নওগাঁয় নকল মৎস্য ওষুধ তৈরির একটি গোপন কারখানায় অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, মোড়ক, বোতল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযানের সময় কারখানার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান। গোডাউনের মালিকের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুরো কারখানা জুড়ে নকল মাছের ওষুধ উৎপাদনের কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুর রহিম নামের দুই ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়াই এ কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা এভেটা, নাভারা, বাজাজ গ্রুপ ও গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটসহ দেশের পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নকল ওষুধ তৈরি করতেন। তবে বাইরে কোনো সাইনবোর্ড ছিল না; তালাবদ্ধ পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরেই চলছিল এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড।
গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেট কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে অভিযোগ করার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন—সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম, গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ এবং সদর থানার পুলিশ সদস্যরা।
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম বলেন— “গোপন সংবাদে জানতে পারি, কোম্পানির মোড়ক নকল করে ভুয়া মেডিসিন তৈরি হচ্ছে। আমাদের তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আরও তদন্ত চলছে।”
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ হাসান বলেন—
“এখানে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে অবৈধভাবে নকল মৎস্য ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল। বিপুল মালামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
অভিযানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের এমডি নাসিম আহমেদ। তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রোডাক্টের মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আজকের অভিযানে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয়েছে। আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
























