ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
উত্তরবঙ্গের কৃষি সমৃদ্ধ জেলা জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় চলছে আলু চাষের ধুম। আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতেই মাঠে নেমেছেন কৃষক-কৃষাণী, শুরু করেছেন আসন্ন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসল আলু রোপণের কাজ। পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে কৃষি শ্রমিক—সবাই মিলেই জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
গেল মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকরা প্রত্যাশিত লাভ পাননি। তবুও আশার আলো দেখছেন তারা—সামনের বছর বাজারে আলুর ভালো দাম পাওয়া যাবে, এমন প্রত্যাশায় নতুন উদ্যমে আলু চাষ করছেন পাঁচবিবির কৃষকরা।
অংড়া গ্রামের বড়মাপের আলু চাষি আমিনুল ইসলাম আমু মেম্বার জানান, এ বছর তিনি নিজের ও লিজ নেওয়া জমি মিলিয়ে ৬০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে রোপণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। প্রতি বিঘায় রোপণ খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানুলা, সানসাইন, ভ্যালেনসিয়া, বারি আলু-৮৬, মিউজিকা, আটলান্টিক, লাল ও সাদা পাকড়ীসহ বিভিন্ন জাতের আলু রোপণ করছি।”
শ্রমিক ফরিদ হোসেন জানালেন, ৫ দিন আগেই তারা একই জমির ধান কেটে দিয়েছেন। এখন দলবদ্ধভাবে ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে বিঘা প্রতি আলু রোপণের কাজ করছেন।
রতনপুর গ্রামের চাষি মামুনুর রশিদ প্রামাণিক জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু লাগিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, সার ও কীটনাশক, বীজ এবং শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০–৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “২০২৫–২৬ অর্থবছরে পাঁচবিবিতে আলু রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১০০ হেক্টর।” তিনি আরও জানান, উপজেলায় জনপ্রিয় জাতগুলোর পাশাপাশি এ্যালুইট, কুইন অ্যানি, কারেজ, ফ্রেশ, সূর্যমুখী, শীল বিলাতীসহ উন্নতমানের বহু জাতের আলু রোপণ করছেন চাষিরা।
মাঠে কৃষকের এই ব্যস্ততা, জমিতে ব্যবহৃত উন্নত জাতের বিস্তার এবং কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শ—সব মিলিয়ে এ বছর পাঁচবিবিতে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বাজারে ন্যায্য দাম পেলে তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।