ছবিঃ সংগৃহীত
গত বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টা।
এশার নামাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। নামাজিরা সবাই চলে গেছেন নিজ নিজ ঘরে। মসজিদ প্রাঙ্গণ তখন নীরব, নিস্তব্ধ।
ঠিক তখনই চোখে পড়ল এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধকে। নামাজ শেষে তার ছেঁড়া পুটলি থেকে একটি পুরোনো কাঁথা বের করে মসজিদের বারান্দার নিচে—জুতা রাখার স্থানে—বিছানা পাতার চেষ্টা করছিলেন। মনে হলো, এই পবিত্র স্থানটুকুই হয়তো আজ রাতের জন্য তার একমাত্র আশ্রয়।
কিন্তু না—
মসজিদের মোয়াজ্জিন এসে বললেন, এখানে শোয়া যাবে না। অগত্যা বৃদ্ধ মানুষটি অপমানিত হয়ে সরে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মূল ফটকে ঝুলে গেল তালা।
দোষ কি মোয়াজ্জিনের?
না। অনুমতি নেই, নির্দেশ নেই, ব্যবস্থাও নেই।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—
এই বৃদ্ধ মানুষটি আজ রাতে কোথায় যাবে?
এমন একজন নয়—
এমন অগণিত মানুষ আমাদের চারপাশে আছেন।
অসহায় বৃদ্ধ।
পথচারী ও ভবঘুরে।
গভীর রাতে নেমে পড়া ট্রেন ও বাসযাত্রী, যাদের সঙ্গে স্ত্রী–সন্তান।
সারাদিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত চালক।
ফকির, মিসকিন, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ।
যাদের জন্য রাত মানেই ভয়, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্ব।
কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশনাঃ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বারবার মানবতার কথা বলেছেন—
“তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।”
— (সূরা আদ-দাহর, আয়াত ৮)
আরও বলেছেন—
“তোমরা সৎকর্মে ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর।”
— (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত ২)
কবির কণ্ঠে মানবতাঃ
কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন—
“গাহি সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”
গানের ভাষায় মমতাঃ
শিল্পী আব্দুল আলীমের কণ্ঠে—
“দয়া করো হে দয়াল নবী, মিসকিনেরে দয়া করো।”
এই শিক্ষা কি শুধু বইয়ের পাতায় থাকবে?
আকুল আবেদন
এই প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও ধর্ম উপদেষ্টার নিকট আমার বিনীত ও আকুল আবেদন—
প্রত্যেক জেলা শহরের জনাকীর্ণ ও নিরাপদ এলাকায় অন্তত একটি মসজিদের নিচতলাকে “আল্লাহর ঘর” হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
“আল্লাহর ঘর”-এর প্রস্তাবিত বৈশিষ্ট্য
২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
কোনো তালা দেওয়া হবে না।
একটি পায়খানা ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত থাকবে।
কার্পেট, দামী জিনিস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থাকবে না।
শুধু ২টি বাল্ব ও ২টি ফ্যান থাকবে।
মসজিদ কমিটির কেউ অতিথিদের বিরক্ত করতে পারবে না।
পরিচ্ছন্নকর্মীরা সর্বপ্রথম এই স্থান পরিষ্কার করবে।
এখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ হবেন “আল্লাহর ঘরের খাস মেহমান”।
নামাজিরা প্রয়োজনে সিঁড়ি দিয়ে দোতলা বা তদূর্ধ্ব তলায় নামাজ আদায় করবেন।
সবচেয়ে বড় কথা—
এটি করতে কোনো বাজেট নয়, শুধু একটি মানবিক আদেশই যথেষ্ট।
শেষ কথাঃ
এ সিদ্ধান্ত হবে-
ধর্মীয় দায়িত্ব
মানবিক বিজয়
রাষ্ট্রীয় সহমর্মিতা
আবারও বিনীতভাবে অনুরোধ—
প্রতি জেলা শহরে একটি করে হলেও “আল্লাহর ঘর” ঘোষণা করা হোক।
এটাই হবে মানবতার জয়।
এস. আলম
জয়পুরহাট।