০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

কুয়াশা ভেদ করে জীবিকার লড়াই

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 62

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

ক্ষেতলালে আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের কনকনে সকালে ঘন কুয়াশার চাদর মুড়ে রেখেছে ক্ষেতলাল উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। সূর্যের আলো তখনও পুরোপুরি চোখ মেলেনি। তবু জীবিকার টানে থেমে নেই কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। কোদাল হাতে ভোরের শিশির ভেজা মাটিতে নেমে পড়েছেন তারা—আলুর গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সারিবদ্ধ সবুজ আলুর ক্ষেতে চোখে পড়ে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম। কেউ আলুর গাছে মাটি তুলে দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন। কুয়াশা, ঠান্ডা কিংবা কনকনে হাওয়া—কিছুই যেন দমাতে পারছে না তাদের শ্রমের ছন্দ। কারণ এই সময়ের সামান্য অবহেলাই কমিয়ে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফলন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এ বছর আবহাওয়া আমাদের পক্ষে। ঠিক সময়ে বাঁধন দিতে পারলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। আলুই আমাদের পরিবারের প্রধান ভরসা।”

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “ভোরবেলায় কাজ করলে মাটি নরম থাকে। গাছের ক্ষতিও কম হয়। তাই কুয়াশা থাকলেও সকাল সকাল মাঠে নামতে হয়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলাল উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। কৃষি বিভাগ জানায়, নিয়মিত সেচ ও সময়মতো আলু বাঁধন নিশ্চিত করা গেলে রোগবালাই কমবে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে মাঠে মাঠে কৃষকদের এই কর্মচাঞ্চল্য শুধু অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে না—গ্রামীণ জীবনের পরিশ্রমী সৌন্দর্য আর সংগ্রামী বাস্তবতাকেও জীবন্ত করে তুলছে।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

কুয়াশা ভেদ করে জীবিকার লড়াই

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

ক্ষেতলালে আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের কনকনে সকালে ঘন কুয়াশার চাদর মুড়ে রেখেছে ক্ষেতলাল উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। সূর্যের আলো তখনও পুরোপুরি চোখ মেলেনি। তবু জীবিকার টানে থেমে নেই কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। কোদাল হাতে ভোরের শিশির ভেজা মাটিতে নেমে পড়েছেন তারা—আলুর গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সারিবদ্ধ সবুজ আলুর ক্ষেতে চোখে পড়ে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম। কেউ আলুর গাছে মাটি তুলে দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন। কুয়াশা, ঠান্ডা কিংবা কনকনে হাওয়া—কিছুই যেন দমাতে পারছে না তাদের শ্রমের ছন্দ। কারণ এই সময়ের সামান্য অবহেলাই কমিয়ে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফলন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এ বছর আবহাওয়া আমাদের পক্ষে। ঠিক সময়ে বাঁধন দিতে পারলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। আলুই আমাদের পরিবারের প্রধান ভরসা।”

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “ভোরবেলায় কাজ করলে মাটি নরম থাকে। গাছের ক্ষতিও কম হয়। তাই কুয়াশা থাকলেও সকাল সকাল মাঠে নামতে হয়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলাল উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। কৃষি বিভাগ জানায়, নিয়মিত সেচ ও সময়মতো আলু বাঁধন নিশ্চিত করা গেলে রোগবালাই কমবে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে মাঠে মাঠে কৃষকদের এই কর্মচাঞ্চল্য শুধু অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে না—গ্রামীণ জীবনের পরিশ্রমী সৌন্দর্য আর সংগ্রামী বাস্তবতাকেও জীবন্ত করে তুলছে।