ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
মোঃ সাকিব ইসলাম, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ইং
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম শমসাবাদ গ্রামের কালো মসজিদ উত্তর পাড়ার কৃষক মোঃ সাকিব ইসলামের তিন বিঘা ১০ কাঠা জমির ধানের মধ্যে এক বিঘা ১০ কাঠা জমির ধান মৌসুমজুড়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি দুই বিঘা জমির ধান সুস্থভাবে ঘরে তোলা গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান ও খড় দুটোই পচে-গলে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাকিব ইসলামের নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির ধান মাটিতে পড়ে গিয়ে তা থেকে নতুন গাছ গজিয়েছে। ধানের শীষ কালো হয়ে পচে গেছে। ঘরে তোলার মতো কোনো ফসলই অবশিষ্ট নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ধানগুলো গ্রামের ছেলো মেশিন দিয়ে কোপানো হচ্ছে। শেষ চেষ্টা হিসেবে যদি কিছুটা চাল বাঁচানো যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ সাকিব ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "তিন বিঘা ১০ কাঠা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিল ঘরে ভালো ফসল তুলবো। কিন্তু মৌসুমজুড়ে একটানা বৃষ্টির কারণে এক বিঘা ১০ কাঠা জমির ধান মাটিতে পড়ে যায়। পড়ে থাকা ধান থেকেই আবার গাছ গজিয়েছে। ধানও নষ্ট হয়েছে, খড়ও নষ্ট হয়েছে। ঘরে তোলার মতো কিছুই রইল না। সারা বছরের কষ্ট, এক মৌসুমের বৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেল।"
তিনি আরও বলেন, "কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যায় নিরবে। কেউ টের পায় না। মাঠের ফসল নষ্ট মানে ঘরের হাঁড়ি চড়ে না। তারপরও আল্লাহ ভরসা। কৃষক কখনো হারে না। আবার নতুন করে শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন কৃষক ভাইদের জন্য।"
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবার মৌসুমজুড়ে অতিবৃষ্টির কারণে পাঁচবিবির নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষকের ধান জমিতেই নষ্ট হয়েছে। জলাবদ্ধতায় ধান মাটিতে শুয়ে পড়ে অঙ্কুরোদগম হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টিতে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শীষে থাকা ধান থেকে চারা গজিয়ে যায়। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খড়ও পচে যায়, যা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাকিব ইসলামের মতো অনেকেই এখন সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা এ ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারেন।