ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
মিজানুর রহমান, শিবগঞ্জ (বগুড়া): ১৪ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে ‘পারিবারিক কবরস্থান’ নামে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এনজিও ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে উপেক্ষা এবং ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন উপজেলার ফেনীগ্রাম এলাকার মৃত আফসার আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন এবং জায়গাটির নাম দেন ‘পারিবারিক কবরস্থান’। অথচ সেখানে আজ পর্যন্ত কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়নি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কবরস্থানের নাম ব্যবহার করে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় আবেগের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে প্রকৃতপক্ষে এটি ব্যক্তিগত জমি দখলের একটি কৌশল বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলেন, এটি যদি অনুমোদিত কবরস্থান না হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপে জমি দখলমুক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ঘটনায় জমির মালিক দাবি করা ইমরান হোসেন ফরহাদ শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দলিলমূলে তিনি জমিটির মালিক হন এবং এরপর থেকে নিয়মিত খাজনা-খারিজ দিয়ে আসছেন। কিন্তু ফেনীগ্রামের মোজাফফর হোসেন, দুলাল হোসেন, হেলাল হোসেন ও জুলফিকার হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করছেন।
ইমরান হোসেন ফরহাদ বলেন, বিবাদীপক্ষ দাবি করছে তারা ১১৩৭ নম্বর দাগের জমির দাবিদার। কিন্তু বাস্তবে তারা তার মালিকানাধীন ১১৩৫ ও ১১৩৬ নম্বর দাগের জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। এক পর্যায়ে মোজাফফর হোসেন নিজেই একজন আইনজীবী নিয়ে সালিশে উপস্থিত হন। সেখানে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ওই আইনজীবী জানান, ১১৩৫ নম্বর দাগ তার দলিলে উল্লেখ না থাকায় ওই জমির ওপর মালিকানা দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ইমরান হোসেনের অভিযোগ, আইনি পথে সফল না হয়ে বিবাদীপক্ষ এখন পেশিশক্তির আশ্রয় নিয়েছে। গত ৫ জুলাই সকালে জমিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আইন ও দলিল যার, জমির মালিকও তিনি। সালিশে নিজেদের আইনজীবীর কাছেই বিবাদীপক্ষ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও তারা জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ভাই দুলাল হোসেন বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নই। সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছি। যারা নিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই বক্তব্য সংগ্রহ করুন।”
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”