ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, খোলা ভোজ্যতেল বিক্রির ফলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই ভেজালমুক্ত ও গুণগত মানসম্পন্ন প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল বাজারজাত ও বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, উৎপাদক এবং ভোক্তা—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার সকালে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ‘খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক জেলা অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত সভায় সার্বিক সহযোগিতা করে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন।
সভায় জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কনসালটেন্ট ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মু. ইফতিখার, প্রতিষ্ঠানটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া আফরিন জিনিয়াসহ প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর গুণগত মান, সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে তা জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খোলা তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
সভায় স্থানীয় বাজারগুলোতে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা এবং ভোক্তাদের প্যাকেটজাত ও মানসম্মত ভোজ্যতেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতনতাও জরুরি। বাজারে মানসম্মত প্যাকেটজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।