ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
কালাই থেকে জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ):
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রবাসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে কিডনি বিক্রির চুক্তি করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ করেছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের শিহাব হোসেন (২৪)। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর একটি কিডনি ছয় লাখ টাকায় বিক্রির জন্য তাঁর বাবা-মা চুক্তি করেছেন। পরে কিডনি অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
এ ঘটনায় শিহাব তাঁর বাবা-মা এবং তারেক হাজী নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শিহাব উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও রহিমা বেগম দম্পতির ছেলে।
কালাই থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে শিহাব বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তাঁর বাবা-মা তাঁকে পাকিস্তানের একটি হাসপাতালে চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানান। তাঁদের কথায় তিনি পাকিস্তানে যেতে সম্মত হন। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় গেলে বাবার পরিচিত তারেক হাজীসহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে পাকিস্তানে যান শিহাব। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিহাবের দাবি, পরদিন হাসপাতালের একটি ‘বোর্ড মিটিংয়ে’ তাঁকে জানানো হয়, তাঁর একটি কিডনি ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর বাবা-মা চুক্তি করেছেন। এ চুক্তির বিপরীতে তাঁর বাবা অগ্রিম তিন লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও তাঁকে জানানো হয়। কিডনি দেওয়ার বিষয়টি তাঁর অজান্তেই করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে শিহাব আপত্তি জানালে তাঁকে হাসপাতালে আটকে রেখে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে অন্য এক ব্যক্তির সহযোগিতায় কৌশলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর পাকিস্তান থেকে বিমানে করে গত ৩১ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসেন বলে জানান শিহাব।
তাঁর অভিযোগের সঙ্গে পাকিস্তানি ভিসার রেফারেন্স নম্বর ৮৮০০৬৪৫৮৮৭৬ এবং দেশে ফেরার বিমানযাত্রার বিভিন্ন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। শিহাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই ফ্লাইট নম্বর CZ8070 এবং ৩১ জুলাই ফ্লাইট নম্বর CZ5015-এ তিনি দেশে ফেরেন।
শিহাব আরও অভিযোগ করেন, দেশে ফেরার পর গত ১১ আগস্ট সকালে বাড়িতে গিয়ে বাবা-মায়ের কাছে কিডনি বিক্রির বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাঁরা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ‘খবর আছে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
শিহাব বলেন, “প্রবাসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাকে পাকিস্তানে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, আমার একটি কিডনি ছয় লাখ টাকায় দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে কিডনি নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলে আমি প্রতিবাদ করি। পরে সুযোগ পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসি।”
তবে শিহাবের বাবা-মা তাঁর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাঘবপুর গ্রামে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া না গেলেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, “আমরা অনেক দূরে আছি, পরে আপনাকে জানাব।” একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, “আমার ছেলে মিথ্যা বলছে।”
এদিকে, শিহাবের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আজ দুপুরে পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিহাবের অভিযোগের সত্যতা, পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল, কথিত কিডনি বিক্রির চুক্তি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।