ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
বগুড়া প্রতিনিধিঃ ২৭ আগস্ট ২০২৬
বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুচকা ও চটপটি তৈরি এবং খাদ্য উৎপাদনে অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে ‘ভাই-বোন ফুচকা ও চটপটি কারখানা’কে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ১২ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বগুড়া মহানগরের রহমাননগর এলাকায় মৌ নার্সিং হোম সংলগ্ন কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালালের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে ফুচকা ও চটপটি তৈরির ক্ষেত্রে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফুচকা তৈরির টেবিলের পাশে ইঁদুর ধরে রাখা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। এছাড়া কবুতরের খাঁচার পাশে উৎপাদিত খাদ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সেখানে কবুতরের বিষ্ঠা ও পালক খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি পাওয়া যায়।
এ সময় ফুচকা ও চটপটিতে ব্যবহৃত সস গরম অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। সিদ্ধ ডিম ও সিদ্ধ আলুও অস্বাস্থ্যকর ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে রাখা ছিল। সালাদ তৈরিতে পচা গাজর ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়।
এসব অনিয়ম ও খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দোষ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগামী ১২ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ সময়ের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়া জেলা কার্যালয়কে অবহিত করার পর পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল, সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সব আইন ও বিধি মেনে খাদ্য উৎপাদন এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।