ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
বগুড়া প্রতিনিধিঃ ২৭ আগস্ট ২০২৬
দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি কিংবা গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়াসহ সারাদেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রয়েছে। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, বিশেষ করে আলু চাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরের প্রয়োজনীয় সার এখনই কিনতে শুরু করলে বাজারে অযথা চাপ সৃষ্টি হয় এবং দামও বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার আগেভাগে না কেনার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে কৃষকদের বাড়তি দামে আগাম সার কেনার প্রয়োজন নেই।
সারের সার্বিক তদারকি, উত্তোলন ও ডিলারদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত কমিটিতে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তিনি নিজে রয়েছেন। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিলার পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ডিলারের মধ্যে অসন্তোষ ও ব্যবসায়িক অনীহা তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল ও খুচরা ডিলাররাই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
তবে অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ডিলার সার উত্তোলনের জন্য ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) করার পরও তা উত্তোলন না করলে, অথবা সার উত্তোলন করে গোডাউনে আটকে রেখে খুচরা বাজারে সরবরাহ না করলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার সমিতির শীর্ষ নেতারাও এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। এর মধ্যে পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিলারদের কমিশন বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শেষে দ্রুত কমিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
গোডাউন পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।