ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে জয়পুরহাটে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে জয়পুরহাটেও বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক যাদব সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ মোবারক, জয়পুরহাট সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খবির উদ্দিন মোল্ল্যাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণসহ মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তারা আরও বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই তিন মাসের এ কর্মসূচিকে সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।