গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধার বিভিন্ন হাট-বাজারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চোরাই ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার শিবপুর এলাকার পাঁচগাছি বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে কয়েকজন কসাই নিয়মিত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। তবে জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত গরুর মাংসও মানুষের কাছে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঁচগাছি বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, অনেক সময় গরু প্রকাশ্যে জবাই না করে আড়ালে জবাই করা হয়। পশুটির মালিকানা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা যাচাইয়েরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই বলে তাদের অভিযোগ। এর ফলে চোরাই গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া গরু কসাইদের মাধ্যমে জবাই করে মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। পাঁচগাছি বাজার ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জের কসাইপট্টি, কোমরপুর, কাটাখালী, বালুহাট, মহিমাগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
চোরাই গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বাজারজাত করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। একই সঙ্গে প্রতিটি গরু জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গরুর মালিকানা যাচাই এবং অনুমোদিত স্থানে জবাই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন চোরাই গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করা যাবে।