ছবির ক্যাপশনঃ
জয়পুরহাট উপজলা প্রতিনিধি: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জয়পুরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর মন্ডলপাড়ায় বৈধ দলিল, খাজনা ও নামজারি (খারিজ) থাকার দাবি সত্ত্বেও ভোগদখলীয় জমিতে জোরপূর্বক টিনের বেড়া ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মো. আঃ ছালামের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. খলিলুর রহমান প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমান, পিতা-মৃত জসিম উদ্দিন মন্ডল। তিনি জানান, জয়পুরহাট পৌর এলাকার দেবীপুর মৌজার এমআর খতিয়ান নং-৩৩, সাবেক দাগ নং-৯৫/৯৬ এবং হাল দাগ নং-৭১৬/৭২৩-এর মোট ২১ দশমিক ৫০ শতক জমি তিনি প্রায় ৪৫ বছর আগে কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন।
খলিলুর রহমানের ভাষ্য, জমিতে তিনি বাঁশ, আমগাছসহ বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেছেন। তার নামে জমিটির দলিল, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের কাগজপত্র এবং নামজারি (খারিজ) রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে অবস্থানকালে তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী মো. আঃ ছালাম, পিতা-মৃত আমির ফকির, কয়েকজন লোকজন নিয়ে তার ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে জোরপূর্বক টিনের বেড়া ও চালা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আঃ ছালামের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের জমিতে আমরাই ঘর উঠাইছি।”
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ বলেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোনো পক্ষের মালিকানা বা দখল নিয়ে বিরোধ থাকলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়। তিনি বলেন, কারও বৈধ দখলীয় সম্পত্তিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ বা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।