ছবিঃ সংগৃহীত
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় হুমকি, হয়রানি, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রভাবশালী মহলের চাপের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যকার পেশাগত বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভূমিকা রাখছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, কোনো সাংবাদিক অনিয়ম, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব কিংবা অন্য কোনো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলের পক্ষ থেকে তাকে চাপ প্রয়োগ কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই সাংবাদিককে প্রতিহত করতে অন্য সংবাদকর্মীদের ব্যবহার বা প্রভাবিত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
তবে কোনো সংবাদে তথ্যগত ভুল, অসত্যতা, মানহানি বা পেশাগত অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকারের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদলিপি দিতে পারেন, সংশোধনের দাবি জানাতে পারেন কিংবা প্রচলিত আইনে উপযুক্ত প্রতিকার চাইতে পারেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনিভাবে বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, ন্যায্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতি অনুসরণ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্বশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ব্যক্তিগতভাবে নিষ্পত্তির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন, প্রেসক্লাব বা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্থাপন করা উচিত। এতে একদিকে সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে, অন্যদিকে অভিযোগেরও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ অবস্থায় জয়পুরহাট জেলার সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পেশাগত প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে; তবে তা যেন কোনো সহকর্মীর ওপর হয়রানি, হুমকি বা লাঞ্ছনার কারণ না হয়। আইন ও পেশাগত নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্বশীলতা ও ঐক্যই সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
সাংবাদিক লাঞ্ছনার কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিককে যথাযথ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।