ছবির ক্যাপশনঃ
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ ৫ অক্টোবর ২০২৬
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের ১ নম্বর কামারগাড়ী (কুমারগাড়ী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় চারজন সহকারী শিক্ষিকার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অন্য কোনো শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নাকাই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে দরখাস্তসহ দেখা করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী দরখাস্ত দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাকে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি মামলায় হাজতবাসের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। এর আগেও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতেন না এবং পাঠদানে অনিয়ম ছিল—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নাকাই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।