ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তেলিহার গ্রামে সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী ও সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন কাজলী রানী ওরফে মারিয়া আক্তার নামের এক নারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মারিয়া আক্তারের দাবি, মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০১৩ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে গত সাত-আট মাস ধরে মাহফুজ তাঁর ও সন্তানের খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাহফুজের দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানতে পেরে সন্তানের স্বীকৃতি ও নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি স্বামীর বাড়িতে আসেন।
মারিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিয়ের আগে গাজীপুরের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে ধর্ম পরিবর্তনসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং এক লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও মাহফুজ সেখানে যাতায়াত করতেন বলে জানান। তবে বিয়ে, দেনমোহর ও অন্যান্য দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেলিহার গ্রামে মাহফুজের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন মারিয়া। তাঁর দাবি, তাঁকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
অবস্থানকালে মারিয়া আক্তার বলেন, “মাহফুজের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাঁর কথামতো ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করি। আমাদের একটি সন্তান রয়েছে। সাত-আট মাস ধরে তিনি আমাদের খোঁজ নেন না। পরে জানতে পারি, তিনি আবার বিয়ে করেছেন। আমি নিজের ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার এবং সামাজিক স্বীকৃতি চাই।”
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মারিয়া ও তাঁর সন্তানের বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের গ্রামের মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এখন নারী ও শিশুটির বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
একই গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, মাহফুজের বিয়ের বিষয়টি আগে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকলেও তিনি তা অস্বীকার করতেন বলে তাঁদের জানা ছিল। নারীটি সন্তান নিয়ে আসার পর গ্রামবাসী তাঁকে শান্ত করে বসার ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ আলী বলেন, আগে বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন, এখন ওই নারীকে সন্তানসহ বাড়িতে আসতে দেখেছেন। স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে কিংবা আইনসম্মত উপায়ে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান বলেন, “তিনি আমার স্ত্রী। আমি তাঁকে তালাক দিইনি। তাঁকে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী আমার বাড়িতে উঠতেই পারেন।” এ ঘটনায় ভিডিও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।