ছবির ক্যাপশনঃ
মিজানুর রহমান (বগুড়া): ২২ আগস্ট ২০২৬
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ও চায়ের দোকানগুলো। নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রফিকুল।
রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম রফিকুল ১৯৯১ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর নিজ দক্ষতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা ও ত্যাগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৃণমূলের রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ভাবধারার রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ। ১৯৯৫ সালে দেউলী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৯৭ সালে দেউলী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করেন। ২০০৮ সালে দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দল পরিচালনা করেন।২০১৬ সালে দেউলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বর্তমানে দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি একটি রাজনৈতিক মামলারও শিকার হয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং দলের প্রতিটি কঠিন সময়ে মামলা-হামলার ঝুঁকি নিয়ে তিনি রাজপথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে দেউলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের ভোটার, গণমান্য ব্যক্তি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়, জনসংযোগ ও দোয়া প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছেন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় এই নেতাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মাঝে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম রফিকুল দীর্ঘ সময় ধরে দেউলী ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও দলীয় নানা সংকটে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল তার ওপর আস্থা রেখে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছিল এবং তিনি অত্যন্ত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন।
পূর্বে দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে সংগঠন পরিচালনা করার পর, বর্তমানে তিনি দেউলী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তার আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শফিকুল ইসলাম রফিকুল বলেন, দেউলী ইউনিয়নের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এবং সাধারণ জনগণের প্রগাঢ় দোয়া ও ভালোবাসাকে পাথেয় করে আমি রাজনীতি করি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার প্রলোভন নয়, বরং মানুষের সেবাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছি। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল যদি আমার অতীত ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের জনপ্রিয়তার ওপর আস্থা রেখে আমাকে পুনরায় মনোনয়ন ও সমর্থন দেয়, তবে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,
নির্বাচিত হলে অবহেলিত দেউলী ইউনিয়নকে আধুনিক, বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত ও সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। প্রতিটি গ্রামে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিক সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে আমার মূল অগ্রাধিকার।
দেউলী ইউনিয়নের একাধিক প্রবীণ ও তরুণ নেতাকর্মী জানান, শফিকুল ইসলাম রফিকুল একজন বিনয়ী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং সহজ-সরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০১৬ সালে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।
বর্তমানে এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও আলোচনা রয়েছে। দল যদি সৎ, যোগ্য ও তৃণমূলের ত্যাগী নেতা হিসেবে তাকে সমর্থন দেয়, তবে বিএনপি এই ইউনিয়নে একাট্টা হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সক্ষম হবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বর্তমানে দেউলী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বস্তরের জনগণের সাথে কুশল বিনিময় করছেন এবং বিগত দিনের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আগামী দিনে দেউলীবাসীর সার্বক্ষণিক পাশে থাকার সুযোগ প্রার্থনা করছেন।