প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ২:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ২:১৪ পি.এম
জয়পুরহাটে দেড়শ বছরের লোকজ ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
ছবির ক্যাপশনঃ
লাঠির ঘূর্ণিতে জেগে ওঠে গ্রামবাংলা, ঐতিহ্য আঁকড়ে বেঁচে আছেন লাঠিয়ালরা
প্রতিনিধি: মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢোলের গম্ভীর আওয়াজ, কাঁসার ঘণ্টার ঝংকার আর লাঠির ছন্দময় ঘূর্ণিতে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামের পথ-প্রান্তর। কখনো লাঠির সঙ্গে লাঠির ঠকঠক শব্দ, কখনো আক্রমণ ঠেকাতে ক্ষিপ্র পদক্ষেপ, আবার কখনো প্রতিপক্ষের আঘাত এড়িয়ে পাল্টা কৌশল, সব মিলিয়ে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে বাংলার শেকড়ছোঁয়া এক প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতি। চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার চোখে-মুখে বিস্ময়, আনন্দ আর হারানো দিনের স্মৃতির ঝিলিক।
এ কোনো আধুনিক মঞ্চের আয়োজন নয়। এ গ্রামবাংলার মাটিতে শিকড় গেড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পশ্চিম দেওগ্রামে প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর তিন দিন পর বসে এই লাঠিখেলার মেলা। প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন আজও গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে এক অনন্য মিলনমেলা।
আধুনিকতার প্রবল স্রোতে যখন বাংলার অনেক লোকজ খেলা, গ্রামীণ উৎসব আর ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে, তখন পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিখেলা যেন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে তৈরি করেছে এক জীবন্ত সেতুবন্ধন। শনিবার (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে ঘিরে বসে মানুষের মিলনমেলা। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
লাঠির ঘূর্ণিতে ফিরে আসে পূর্বপুরুষের স্মৃতি
একসময় গ্রামবাংলার সামাজিক জীবন, আত্মরক্ষা ও শরীরচর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল লাঠিখেলা। গ্রামের তরুণেরা লাঠি চালানোর কৌশল শিখতেন অভিজ্ঞদের কাছ থেকে। শক্তি, ক্ষিপ্রতা, সাহস, মনোযোগ আর কৌশলের সমন্বয়ে গড়ে উঠত একজন দক্ষ লাঠিয়াল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুখে মুখে, হাতে-কলমে ছড়িয়ে পড়ত এই বিদ্যা।
পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিখেলা সেই পুরোনো ধারারই স্মারক। এখানে লাঠি কেবল একটি কাঠের দণ্ড নয়; এটি পূর্বপুরুষের স্মৃতি, গ্রামীণ ঐক্য এবং লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক। লাঠিয়ালদের প্রত্যেকটি চাল, প্রতিটি পদক্ষেপ আর প্রতিপক্ষের আঘাত সামলে নেওয়ার কৌশলের মধ্যে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা।
সবচেয়ে আশার কথা, এই খেলা টিকিয়ে রাখতে লাঠিয়ালদের অনেকেই কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই অংশ নেন। দর্শকদের আনন্দ দিতে, বাপ-দাদার ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে বাংলার পুরোনো সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তাঁদের এই নিরলস প্রচেষ্টা।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবনযাপন, তরুণদের আগ্রহের পরিবর্তন এবং নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এই ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও তৈরি করেছে। প্রবীণ লাঠিয়ালদের আশঙ্কা, যথাযথ উদ্যোগ না নিলে একসময় তাঁদের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে লাঠিখেলার বহু পুরোনো কৌশল ও স্মৃতি।
লাঠিখেলার মেলা মানেই আত্মীয়তার টান
পশ্চিম দেওগ্রামের এই আয়োজন শুধু লাঠিখেলা দেখার উপলক্ষ নয়; এটি আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করার এক সামাজিক উৎসব। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামগুলোতে শুরু হয় জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দেওয়ার ব্যস্ততা। অনেক বাড়িতে কয়েক দিন আগে থেকেই চলে ঘর গোছানো, বাজার করা আর বিশেষ খাবারের প্রস্তুতি।
মেলার দিন দুপুরে বাড়িতে বাড়িতে বসে আত্মীয়স্বজনের ভোজ। কোথাও খই, মুড়ি ও নাড়ু দিয়ে আপ্যায়ন, কোথাও মাংস-ভাতের আয়োজন। বহু পরিবারের কাছে এই দিনটি ঈদ কিংবা অন্য বড় উৎসবের মতোই আনন্দের। দূরে থাকা আত্মীয়েরা বাড়ি ফেরেন, পুরোনো বন্ধুরা মিলিত হন, আর নতুন প্রজন্ম পরিচিত হয় গ্রামের সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে।
মেলাকে ঘিরে যেন কয়েক দিনের জন্য বদলে যায় গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কারও বাড়িতে অতিথির ভিড়, কারও উঠানে রান্নার আয়োজন, আবার কোথাও শিশুদের কোলাহল। এই যে সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করা, এটাই গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম সৌন্দর্য।
কালাই উপজেলার পৌরসা গ্রামের বাসিন্দা লাবলু বলেন, “এ গ্রামে আমার নানার বাড়ি। লাঠিখেলার মেলা উপলক্ষে আমাদের পুরো পরিবারকে দাওয়াত করা হয়। মেলায় এলে কিছুক্ষণের জন্য শৈশবে ফিরে যাই। পুরোনো দিনের আনন্দ আর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার অনুভূতি অন্য রকম।”
আব্দুস সালাম নামের এক প্রবীণ বলেন, “অন্য কোনো উৎসবে জামাই-মেয়ে বা আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত না দিলেও চলে। কিন্তু পূর্বপুরুষের রীতি অনুযায়ী লাঠিখেলার মেলায় তাঁদের দাওয়াত দিতেই হবে। এটা আমাদের বহু দিনের সামাজিক প্রথা।”
মোশারফ হোসেন জানান, মেলা উপলক্ষে তাঁর বাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জন আত্মীয়স্বজন এসেছেন। গ্রামের মানুষ সারা বছর এ মেলার অপেক্ষায় থাকেন। মেলার জন্য অনেক পরিবার আলাদা বাজেট রাখে। নতুন জামাকাপড় কেনা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন—সবকিছুতেই থাকে বাড়তি আনন্দ। তাঁর ভাষায়, এই মেলাকে ঘিরে তাঁদের আনন্দ অনেক সময় ঈদের আনন্দকেও ছাড়িয়ে যায়।
মিষ্টির ঘ্রাণে, মাটির সামগ্রীর টানে
লাঠিখেলা মেলার প্রধান আকর্ষণ হলেও এর চারপাশে গড়ে ওঠে গ্রামীণ জীবনের আরেক রঙিন জগৎ। সারি সারি দোকানে সাজানো থাকে নানা রকম মিষ্টি, চিনির শাহী জিলাপি, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও কাঠের গৃহস্থালি সামগ্রী, লোহার তৈরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং শিশুদের খেলনা।
মিষ্টির দোকানগুলোতে ভিড় জমে ছোট-বড় সবার। শিশুদের হাতে নতুন খেলনা, নারীদের পছন্দের প্রসাধনী আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ব্যস্ত থাকেন ক্রেতারা। এসব দোকান শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এগুলো গ্রামীণ কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মৌসুমি দোকানিদের আয়েরও সুযোগ তৈরি করে।
একসময় গ্রামের হাট-মেলাই ছিল মাটির জিনিস, বাঁশের তৈরি সামগ্রী ও হাতে বানানো খেলনা কেনার অন্যতম জায়গা। পশ্চিম দেওগ্রামের মেলায় আজও সেই গ্রামীণ বাজারসংস্কৃতির কিছুটা ছাপ দেখা যায়। আধুনিক পণ্যের ভিড়েও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সম্পর্ক কত গভীর।
মেলার দিন দুপুরে চলে পারিবারিক আপ্যায়ন, বিকেলে বাড়তে থাকে কেনাকাটার ভিড়। সন্ধ্যার পরও মানুষের আনাগোনা থামে না। লোকজন লাঠিখেলা দেখেন, দোকান ঘুরে কেনাকাটা করেন, পরিচিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এভাবেই মেলা হয়ে ওঠে আনন্দ, স্মৃতি, সম্পর্ক ও গ্রামীণ অর্থনীতির সম্মিলিত উৎসব।
নব্বই বছরের স্মৃতিতে এক জীবন্ত ইতিহাস
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মোজাম্মেল হোসেনের কাছে এই মেলা কেবল বার্ষিক আয়োজন নয়, জীবনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচিহ্ন। তাঁর বয়স এখন প্রায় ৯০ বছর। ছোটবেলা থেকেই তিনি পশ্চিম দেওগ্রামে লাঠিখেলার মেলা দেখে আসছেন।
তিনি বলেন, “ছোট থেকেই আমাদের গ্রামে এই মেলা দেখে আসছি। মেলাকে ঘিরে গ্রামে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। আত্মীয়স্বজন আসেন। গ্রামের রীতি অনুযায়ী তাঁদের খই, মুড়ি, নাড়ু ও মাংস-ভাত দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।”
একজন প্রবীণের স্মৃতিতে ধরে রাখা এই বর্ণনা যেন গ্রামবাংলার সামাজিক ইতিহাসেরই একটি খণ্ডচিত্র। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, যোগাযোগ ও বিনোদনের মাধ্যমও হয়েছে আধুনিক। তবু পশ্চিম দেওগ্রামের এই মেলা প্রমাণ করে, মানুষের শেকড়ের টান সহজে মুছে যায় না।
বাপ-দাদার বিদ্যা ধরে রেখেছেন লাঠিয়ালরা
প্রবীণ লাঠিয়াল সহিদুলের জীবনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে লাঠিখেলা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা ও দাদারা লাঠিখেলা করতেন। তাঁদের কাছ থেকেই তিনি এ খেলার কৌশল শিখেছেন। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি নিজেও লাঠিখেলায় অংশ নিচ্ছেন।
সহিদুল বলেন, “আমাদের বাপ-দাদারা লাঠিখেলা করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি। আমরা যখন খেলা দেখাই, তখন মানুষ আনন্দ পায়। দর্শকদের আনন্দ দেখেই আমাদের ভালো লাগে।”
তাঁর কথায় ফুটে ওঠে এক ধরনের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। অর্থ বা পুরস্কারের প্রত্যাশার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে দর্শকের আনন্দ এবং পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার তৃপ্তি। তাঁদের কাছে লাঠিখেলা কোনো সাধারণ প্রদর্শনী নয়; এটি বংশপরম্পরায় পাওয়া সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।
অন্যদিকে তরুণ লাঠিয়াল স্বাধীন হোসেনের কাছে এই খেলা ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভালো লাগারও বিষয়। তাঁর বাবা লাঠিখেলা করেন। বাবার কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন লাঠি চালানোর কৌশল। এখন নিজেও অংশ নেন খেলায়।
স্বাধীন হোসেন বলেন, “আমার বাবা লাঠিখেলা করেন। তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি। এখন নিজেই লাঠিখেলা করি। এই খেলা করতে আমার খুব ভালো লাগে।”
প্রবীণ সহিদুল আর তরুণ স্বাধীন—দুই প্রজন্মের এই উপস্থিতি আশার আলো দেখায়। ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের আগ্রহের যোগসূত্র তৈরি করা জরুরি। পশ্চিম দেওগ্রামের মাঠে তাঁদের একসঙ্গে লাঠি হাতে দাঁড়ানো যেন সেই ধারাবাহিকতারই প্রতীক।
ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
দেওগ্রাম লাঠিখেলা মেলা কমিটির সদস্য আজিজার রহমান জানান, দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মেলা চলে আসছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ লাঠিখেলা। এ আয়োজনকে ঘিরে আশপাশের জেলা থেকেও বহু মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহ্যবাহী মেলাটি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
তবে শুধু স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এমন ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন। লাঠিয়ালদের নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ, নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ, লোকজ খেলার ইতিহাস সংরক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদ্যালয় পর্যায়ে লোকজ খেলাধুলার পরিচিতি, স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লাঠিখেলার প্রদর্শনী, প্রবীণ লাঠিয়ালদের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করা এবং তাঁদের কৌশল ভিডিওতে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মেলার নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজনটি আরও উপভোগ্য হবে।
লাঠিখেলার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেওয়া হলে তরুণদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে। কারণ, কোনো ঐতিহ্য কেবল স্মৃতিচারণে বেঁচে থাকে না; তা বাঁচে মানুষের চর্চায়, পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধে।
শেকড়ের টানে বেঁচে থাকুক গ্রামবাংলা
পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিখেলার মেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাংলার ঐতিহ্য শুধু বইয়ের পাতায় কিংবা জাদুঘরের নিদর্শনে সীমাবদ্ধ নয়। তা বেঁচে আছে গ্রামের মানুষের অভ্যাসে, পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনে, প্রবীণদের স্মৃতিতে এবং তরুণদের হাতে ধরা লাঠির ঘূর্ণিতে।
এই মেলায় আছে পূর্বপুরুষের উত্তরাধিকার, আছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছোট্ট পরিসর, আছে আত্মীয়তার উষ্ণতা আর সামাজিক সম্প্রীতির ছবি। ঢোলের তালে লাঠির প্রতিটি আঘাত যেন বলে যায়—সময়ের পরিবর্তন অনিবার্য, কিন্তু শেকড়কে আঁকড়ে ধরার ইচ্ছা থাকলে ঐতিহ্যও বেঁচে থাকতে পারে।
তাই পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিখেলা কেবল একটি গ্রামের উৎসব নয়; এটি গ্রামবাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য প্রয়াস। প্রয়োজন শুধু এই প্রয়াসের পাশে দাঁড়ানো, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং ঐতিহ্যটিকে ভবিষ্যতের জন্য সযত্নে সংরক্ষণ করা। তাহলেই হয়তো আগামী দিনেও ঢোলের শব্দে, কাঁসার ঘণ্টার ঝংকারে আর লাঠির ছন্দময় ঘূর্ণিতে জেগে উঠবে বাংলার চিরচেনা গ্রামজীবন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত