০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
আদালতে মামলা

দুই পদে জাল সার্টিফিকেটে মাদ্রাসায় নিয়োগ, নেপথ্য ২৫ লাখ টাকা ঘুষ

  • প্রকাশের সময় : ০২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • 202

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রবিবার ২৭ জুলাই ২০২৫

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী ফাতেমা জহুরা মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী নামা পাড়ার বাসিন্দা আছব আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি মামলায় কামারগাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মাকছুদুল মুমিন, নামা পাড়ার বাদেশ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসানসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।

মামলার বিবরণে বাদী আছব আলী জানান, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট সহকারী লাইব্রেরিয়ান এবং ২০২০ সালের ১৫ জুলাই লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে আবেদন করে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরও তাকে নিয়োগ না দিয়ে জাল সনদের মাধ্যমে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। লাইব্রেরিয়ান পদে মাকছুদুল মুমিন ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর মনোগ্রামযুক্ত ভুয়া এমএসএস সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে এগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত করে।

অপরদিকে, সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদুল হাসান ‘ফাজিল’ ও গ্রন্থাগারিক ডিপ্লোমা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে নিয়োগ পান। তার ফাজিল সনদটি প্রকৃতপক্ষে মশিউর রহমান নামের অন্য এক ব্যক্তির, আর ডিপ্লোমা সনদ অন্য একজন মাহমুদুল হাসানের নামে ইস্যুকৃত।

ঘুষ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাত মামলায় অভিযোগ রয়েছে, উক্ত নিয়োগ দুটির জন্য নিয়োগ বোর্ডকে লাইব্রেরিয়ান পদে ১৫ লাখ ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে ১০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা বেতনভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাকছুদুল মুমিন দাবি করেছেন, আমার সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। মামলা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতের রায়েই সত্যতা বের হবে। তবে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফাতেমা জহুরা বটতলী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন বলেন মাকছুদুল মুমিন ও মাহমুদুলের সনদ সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমানে একটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি,
আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে এবং আমরা সেই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। আদালতের বাইরে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে আমি একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি।”

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

আদালতে মামলা

দুই পদে জাল সার্টিফিকেটে মাদ্রাসায় নিয়োগ, নেপথ্য ২৫ লাখ টাকা ঘুষ

প্রকাশের সময় : ০২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রবিবার ২৭ জুলাই ২০২৫

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী ফাতেমা জহুরা মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী নামা পাড়ার বাসিন্দা আছব আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি মামলায় কামারগাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মাকছুদুল মুমিন, নামা পাড়ার বাদেশ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসানসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।

মামলার বিবরণে বাদী আছব আলী জানান, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট সহকারী লাইব্রেরিয়ান এবং ২০২০ সালের ১৫ জুলাই লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে আবেদন করে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরও তাকে নিয়োগ না দিয়ে জাল সনদের মাধ্যমে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। লাইব্রেরিয়ান পদে মাকছুদুল মুমিন ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর মনোগ্রামযুক্ত ভুয়া এমএসএস সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে এগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত করে।

অপরদিকে, সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদুল হাসান ‘ফাজিল’ ও গ্রন্থাগারিক ডিপ্লোমা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে নিয়োগ পান। তার ফাজিল সনদটি প্রকৃতপক্ষে মশিউর রহমান নামের অন্য এক ব্যক্তির, আর ডিপ্লোমা সনদ অন্য একজন মাহমুদুল হাসানের নামে ইস্যুকৃত।

ঘুষ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাত মামলায় অভিযোগ রয়েছে, উক্ত নিয়োগ দুটির জন্য নিয়োগ বোর্ডকে লাইব্রেরিয়ান পদে ১৫ লাখ ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে ১০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা বেতনভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাকছুদুল মুমিন দাবি করেছেন, আমার সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। মামলা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতের রায়েই সত্যতা বের হবে। তবে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফাতেমা জহুরা বটতলী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন বলেন মাকছুদুল মুমিন ও মাহমুদুলের সনদ সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমানে একটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি,
আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে এবং আমরা সেই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব। আদালতের বাইরে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে আমি একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি।”