
ছবিঃ সংগৃহীত
সারা দেশ অপেক্ষা করছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল
ডেক্স রিপোর্টঃ সোমবার, ০৪ আগস্ট ২০২৫
বিভেদ-প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়, দেশের জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুণগত রাজনীতি দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রবিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘ছাত্র সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ করে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। সমাবেশে তরুণদের কাছে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক। এ সময় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ছড়িয়ে দিতে সমাবেশে আগত ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। তোমরা ভোটার হলেও ফ্যাসিবাদ চক্র তোমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তোমাদের হারানো ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য পলাতক স্বৈরাচারের শাসন আমলের গত দেড় দশকের ভোট প্রয়োগের অধিকারবঞ্চিত ৩ কোটি ভোটারসহ সবার সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হতাহত হয়েছে। মামলা, হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন, খুন, গুম, অপহরণের শিকার হয়েছে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। শুধু এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ শতাধিক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে আমাদের, আহত হয়েছে হাজার হাজার। গণঅভ্যুত্থানের সময় শুধু ছাত্রদলেরই ২ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার সামনে উপস্থিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় লাখ লাখ মুখ, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে তোমরাই প্রতিষ্ঠিত করবে নিজেদের অধিকার। আজকে প্রবীণ যারা, তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ আর তোমাদের বিচক্ষণ ও বুদ্ধিদীপ্ত ভূমিকায় নির্মিত হবে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনের বাংলাদেশ, লাখো শহীদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘পলাতক পরাজিত স্বৈরাচার নিষ্ঠুর নির্মমতা চালিয়েও ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা দমিয়ে রাখতে পারেনি। আজকের এ লাখো ছাত্র-ছাত্রী, জনতার সমাবেশ আবারও সেটি প্রমাণ করে দিয়েছে। একটি কথা তোমরা সবাই মনে রাখবে, যদি তোমরা আগামী দিন সাহস ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাও, তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তোমাদের সঙ্গে আছে, ইনশাআল্লাহ তোমাদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও তারা থাকবে। মনে রাখবে, বাংলাদেশের জনগণই বিএনপির তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু ৩৬ দিন নয়, গেল ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছে ছাত্র-জনতা। তাদের প্রাণ দেওয়ার লক্ষ্য একটাই। সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি পরিণত দেশ। এ পরিণত দেশে মানুষ বিভেদ চায় না। আমাদের আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশে বিভেদ সৃষ্টির নানা অপচেষ্টা চলছে। হাসিনা তার লোকজনসহ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি সময়ে সময়ে বাংলাদেশে হামলার হুমকি দিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা শুধু সেখানেই থেমে নেই, নানাভাবে ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টাও করছে। আজকের সমাবেশ থেকে আমাদের শপথ নিতে হবে যে, আমরা আর কখনো এ ফ্যাসিবাদী হাসিনাকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেব না। আমাদের শপথ নিতে হবে যে, আমরা কারো কাছে মাথা নত করব না। আমরা নিজেরাই আত্মনির্ভরশীল হয়ে আমাদের বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। আমাদের লড়াই এখন বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন। সারা দেশ অপেক্ষা করছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিতে হবে। তার আগে দেশের সবাই অপেক্ষা করছে তারেক রহমানের ফেরার জন্য। তাই নয় কি, আমরা সবাই এটাই চাই। তারেক রহমান দেশে আসবেন, নেতৃত্ব দেবেন, আমাদের পথ দেখাবেন।’
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদলকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশে কারো নেই। দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশনা দেন, নেতাকর্মীরা সারা দেশ অবরোধ করে দিতে পারে।’
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘আজ শাহবাগে ছাত্রদলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ছাত্র-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা বাধাগ্রস্ত ছিল। সেই সময়ে জীবন বাজি রেখে তরুণরা শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আজকের সমাবেশ সেই সাহসী তরুণদের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতিফলন। সমাবেশে লাখো নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেবেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ করে ছাত্রদল। গতকাল বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে সমাবেশ শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সমাবেশ কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকে শাহবাগে। রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে সমাবেশস্থলে যোগ দেন। শাহবাগ মোড়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়। শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসির সড়ক, মৎস্য ভবন সড়ক ও কাঁটাবনের সড়কে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। সমাবেশ কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাতীয় পত্রিকা অবলম্বনে।


























