০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

প্রশাসনের পাশে পাখির রাজ্য: ক্ষেতলালের এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প

  • প্রকাশের সময় : ০৪:০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • 95

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ৩১ আশ্বিন ১৪৩২

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে গড়ে উঠছে এক অনন্য ‘পাখি কলোনি’। ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা পাখিদের জন্য গাছে বাঁধছেন মাটির হাড়ি, পুকুরে বসানো হচ্ছে আড়ানী— যেন তারা পায় নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধান।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা বলছেন এক নবযুগের সূচনা। শহরের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া পাখিদের ডাক যেন আবার ফিরে আসছে উপজেলা চত্বরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “পাখি প্রকৃতির প্রাণ, আর প্রকৃতি মানেই জীবন। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে মানুষ, গাছ ও পাখি একসঙ্গে বাঁচবে— সহাবস্থানের এক শান্তিময় আবাস গড়ে উঠবে। ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে এই উদ্যোগ শুধু পাখিদের জন্য নয়, এটি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। পাখির কূজনেই আমরা প্রকৃতির হাসি শুনতে চাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “পাখি কৃষকের নীরব সহচর। তারা মাঠের ক্ষতিকর পোকার দমন করে ফসলকে রক্ষা করে। এই উদ্যোগ প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষ— তিনেরই মঙ্গল বয়ে আনবে।”

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জনাব পলাশ চন্দ্র বলেন, “পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম স্তম্ভ। ক্ষেতলালের এই উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পথে এক আলোকিত পদক্ষেপ।”

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, “যেখানে মানুষ পাখি তাড়ায়, সেখানে পাখিদের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে— এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলেই টিকে থাকবে মানুষ।”

এখন ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে গাছের ডালে ঝুলছে মাটির হাড়ি, পুকুরে ভাসছে আড়ানী। ভোরের আলোয় পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠছে পরিবেশ— যেন প্রকৃতির হৃদস্পন্দন আবার ফিরে পেয়েছে নিজের ছন্দ।

 

জনপ্রিয়

নওগাঁর সাপাহারে জমে উঠছে আমের বাজার, অপেক্ষা আম্রপালির

প্রশাসনের পাশে পাখির রাজ্য: ক্ষেতলালের এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প

প্রকাশের সময় : ০৪:০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ৩১ আশ্বিন ১৪৩২

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে গড়ে উঠছে এক অনন্য ‘পাখি কলোনি’। ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা পাখিদের জন্য গাছে বাঁধছেন মাটির হাড়ি, পুকুরে বসানো হচ্ছে আড়ানী— যেন তারা পায় নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধান।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা বলছেন এক নবযুগের সূচনা। শহরের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া পাখিদের ডাক যেন আবার ফিরে আসছে উপজেলা চত্বরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “পাখি প্রকৃতির প্রাণ, আর প্রকৃতি মানেই জীবন। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে মানুষ, গাছ ও পাখি একসঙ্গে বাঁচবে— সহাবস্থানের এক শান্তিময় আবাস গড়ে উঠবে। ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে এই উদ্যোগ শুধু পাখিদের জন্য নয়, এটি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। পাখির কূজনেই আমরা প্রকৃতির হাসি শুনতে চাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “পাখি কৃষকের নীরব সহচর। তারা মাঠের ক্ষতিকর পোকার দমন করে ফসলকে রক্ষা করে। এই উদ্যোগ প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষ— তিনেরই মঙ্গল বয়ে আনবে।”

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জনাব পলাশ চন্দ্র বলেন, “পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম স্তম্ভ। ক্ষেতলালের এই উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পথে এক আলোকিত পদক্ষেপ।”

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, “যেখানে মানুষ পাখি তাড়ায়, সেখানে পাখিদের জন্য ঘর বানানো হচ্ছে— এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলেই টিকে থাকবে মানুষ।”

এখন ক্ষেতলাল উপজেলা চত্বরে গাছের ডালে ঝুলছে মাটির হাড়ি, পুকুরে ভাসছে আড়ানী। ভোরের আলোয় পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠছে পরিবেশ— যেন প্রকৃতির হৃদস্পন্দন আবার ফিরে পেয়েছে নিজের ছন্দ।