০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 138

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ৪ নভেম্বর, ২০২৫

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চান্দাইর দাখিল মাদ্রাসায় “ল্যাব সহকারী” পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) বেলা ২টায় মাদ্রাসাটিতে লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও ৩ জন ভাইভা পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনোয়ারুল হোসেন ও ডিজি প্রতিনিধি শুকুর আলী। পরীক্ষার পর তারা উত্তীর্ণ প্রার্থীর তালিকায় স্বাক্ষর না করেই মাদ্রাসা ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর (সোমবার) মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, শাহরিয়ার সাগর নামের এক প্রার্থী ২৮.৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে শাহরিয়ার সাগর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই মাদ্রাসায় জমি প্রদানের অঙ্গীকারে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দেন, এবং সেই বিনিময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী অভিযোগ করেন,“আমি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমান প্রতারণা করে স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হোক।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে শাহরিয়ার সাগরের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। সোমবার আমরা উত্তীর্ণ তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছি।

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনোরুল হোসেন বলেন, আমরা পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলাম, ১৪ জনের মধ্যে ৩ জন ভাইভায় অনুপস্থিত ছিলেন। আমি এবং ডিজির প্রতিনিধি কোনো মেধা তালিকায় স্বাক্ষর করিনি।

স্থানীয় মাসুম বিল্লাহ বলেন, এক সময় মানুষ আলেমদের দেখত আদর্শ হিসেবে। কিন্তু আজ সেই সমাজের কিছু আলেমই প্রথমে দোজখে যাবে—এ কথাটা হয়তো অমূলক নয়। তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাদের নসিহত করেন, কিন্তু নিজেরাই যুক্ত হন দুর্নীতি আর মিথ্যার সঙ্গে। যে আলেমরা সত্যের পতাকা হাতে রাখার কথা, তারাই যখন অন্যায়কে ঢেকে রাখেন, তখন আলেম সমাজ মানে পুরো জাতির জন্য লজ্জা আর বদনাম হয়ে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ঘুষ ও প্রভাবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা ফলাফলে স্বাক্ষর না করায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুনঃনিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৭:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ ৪ নভেম্বর, ২০২৫

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চান্দাইর দাখিল মাদ্রাসায় “ল্যাব সহকারী” পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩১ অক্টোবর (শুক্রবার) বেলা ২টায় মাদ্রাসাটিতে লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও ৩ জন ভাইভা পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনোয়ারুল হোসেন ও ডিজি প্রতিনিধি শুকুর আলী। পরীক্ষার পর তারা উত্তীর্ণ প্রার্থীর তালিকায় স্বাক্ষর না করেই মাদ্রাসা ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর (সোমবার) মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, শাহরিয়ার সাগর নামের এক প্রার্থী ২৮.৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে শাহরিয়ার সাগর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই মাদ্রাসায় জমি প্রদানের অঙ্গীকারে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দেন, এবং সেই বিনিময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী অভিযোগ করেন,“আমি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমান প্রতারণা করে স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হোক।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে শাহরিয়ার সাগরের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। সোমবার আমরা উত্তীর্ণ তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছি।

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনোরুল হোসেন বলেন, আমরা পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলাম, ১৪ জনের মধ্যে ৩ জন ভাইভায় অনুপস্থিত ছিলেন। আমি এবং ডিজির প্রতিনিধি কোনো মেধা তালিকায় স্বাক্ষর করিনি।

স্থানীয় মাসুম বিল্লাহ বলেন, এক সময় মানুষ আলেমদের দেখত আদর্শ হিসেবে। কিন্তু আজ সেই সমাজের কিছু আলেমই প্রথমে দোজখে যাবে—এ কথাটা হয়তো অমূলক নয়। তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাদের নসিহত করেন, কিন্তু নিজেরাই যুক্ত হন দুর্নীতি আর মিথ্যার সঙ্গে। যে আলেমরা সত্যের পতাকা হাতে রাখার কথা, তারাই যখন অন্যায়কে ঢেকে রাখেন, তখন আলেম সমাজ মানে পুরো জাতির জন্য লজ্জা আর বদনাম হয়ে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ঘুষ ও প্রভাবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা ফলাফলে স্বাক্ষর না করায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুনঃনিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।