০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মহাদেবপুরে তৃণমূল সাংবাদিকদের কর্মশালাঃ হামলা–মামলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঐক্যের দাবি

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • 71

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

কাজী রেজওয়ান হোসেন সান, মহাদেবপুর (নওগাঁ): ১৭ নভেম্বর ২০২৫

সহিংসতা এড়িয়ে নিরাপদে সংবাদ সংগ্রহের কৌশল শীর্ষক তৃণমূল সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংবাদ পরিবেশনে পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, তথ্যদাতাকে অসম্মান না করে কৌশলী আচরণ করা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বক্তারা।

গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে মহাদেবপুর মডেল প্রেসক্লাব, মহাদেবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি ও স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘মহাদেবপুর দর্পণ’ পরিবারের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মহাদেবপুরে কর্মরত ১৮ জন সাংবাদিক এতে অংশ নেন।

সাংবাদিকতার নৈতিকতা–নিরাপত্তায় জোর কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

দৈনিক ইত্তেফাকের মহাদেবপুর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সভাপতি আজাদুল ইসলাম আজাদ, দৈনিক যায়যায়দিনের বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি ও মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর দর্পণের প্রকাশক ও এফএনএস প্রতিনিধি কাজী রওশন জাহান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কিউ. এম. সাঈদ টিটো। সঞ্চালনা করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী সামছুজ্জোহা মিলন।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা রোধে সংবাদ সংগ্রহে সতর্কতা, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। কেউ অসম্মানজনক আচরণ না করলে সাংবাদিকদেরও সব পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা–মামলার অভিযোগ

তৃণমূল সাংবাদিকেরা জানান, নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে তারা হামলা, মামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, মহাদেবপুরে একটি চক্র প্রকৃত কোনো সংবাদপত্রে কর্মরত না হয়েও ‘সাংবাদিক পরিচয়’ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গাছকাটা, পুকুর খনন, মাটি–বালুর সিন্দিকেট এবং বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ত ছিল। এদের প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

রিসোর্স পার্সনদের বক্তব্যঃ
আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, “ভালো সাংবাদিক হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। একজন নেতার ২০টি গুণ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকের প্রয়োজন ১৮টি অতিরিক্ত গুণ। নতুনদের সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।”

ইউসুফ আলী সুমন বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও মাওলানা আকরাম খাঁর অবদান স্মরণ করে বলেন, “ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রচার করতে হবে। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিলেও মাঠের ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কৌশলে সংবাদ সংগ্রহ করতে হবে।”

চাঁদাবাজমুক্ত সাংবাদিকতা ও ঐক্যের আহ্বানঃ
সভাপতি কিউ. এম. সাঈদ টিটো বলেন, মহাদেবপুরের আন্দোলনে স্থানীয় তিনটি সাংবাদিক সংগঠন সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর এখানে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন হয়েছে। সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। এখন প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলার বাদী কিংবা সহযোগীদের বর্জন করে প্রকৃত সাংবাদিকদের এক প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানান।

 

জনপ্রিয়

বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ড্রাইভার ও হেল্পার গ্রেফতার

মহাদেবপুরে তৃণমূল সাংবাদিকদের কর্মশালাঃ হামলা–মামলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঐক্যের দাবি

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

কাজী রেজওয়ান হোসেন সান, মহাদেবপুর (নওগাঁ): ১৭ নভেম্বর ২০২৫

সহিংসতা এড়িয়ে নিরাপদে সংবাদ সংগ্রহের কৌশল শীর্ষক তৃণমূল সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংবাদ পরিবেশনে পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, তথ্যদাতাকে অসম্মান না করে কৌশলী আচরণ করা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বক্তারা।

গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে মহাদেবপুর মডেল প্রেসক্লাব, মহাদেবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি ও স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘মহাদেবপুর দর্পণ’ পরিবারের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মহাদেবপুরে কর্মরত ১৮ জন সাংবাদিক এতে অংশ নেন।

সাংবাদিকতার নৈতিকতা–নিরাপত্তায় জোর কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

দৈনিক ইত্তেফাকের মহাদেবপুর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সভাপতি আজাদুল ইসলাম আজাদ, দৈনিক যায়যায়দিনের বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি ও মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর দর্পণের প্রকাশক ও এফএনএস প্রতিনিধি কাজী রওশন জাহান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কিউ. এম. সাঈদ টিটো। সঞ্চালনা করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী সামছুজ্জোহা মিলন।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা রোধে সংবাদ সংগ্রহে সতর্কতা, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। কেউ অসম্মানজনক আচরণ না করলে সাংবাদিকদেরও সব পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা–মামলার অভিযোগ

তৃণমূল সাংবাদিকেরা জানান, নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে তারা হামলা, মামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, মহাদেবপুরে একটি চক্র প্রকৃত কোনো সংবাদপত্রে কর্মরত না হয়েও ‘সাংবাদিক পরিচয়’ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গাছকাটা, পুকুর খনন, মাটি–বালুর সিন্দিকেট এবং বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ত ছিল। এদের প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

রিসোর্স পার্সনদের বক্তব্যঃ
আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, “ভালো সাংবাদিক হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। একজন নেতার ২০টি গুণ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকের প্রয়োজন ১৮টি অতিরিক্ত গুণ। নতুনদের সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।”

ইউসুফ আলী সুমন বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও মাওলানা আকরাম খাঁর অবদান স্মরণ করে বলেন, “ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রচার করতে হবে। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিলেও মাঠের ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কৌশলে সংবাদ সংগ্রহ করতে হবে।”

চাঁদাবাজমুক্ত সাংবাদিকতা ও ঐক্যের আহ্বানঃ
সভাপতি কিউ. এম. সাঈদ টিটো বলেন, মহাদেবপুরের আন্দোলনে স্থানীয় তিনটি সাংবাদিক সংগঠন সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর এখানে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন হয়েছে। সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। এখন প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলার বাদী কিংবা সহযোগীদের বর্জন করে প্রকৃত সাংবাদিকদের এক প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানান।