
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
ইউপি সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, এলাকায় চাঞ্চল্য
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে এক যুবকের কিডনি অপসারণের অভিযোগে জয়পুরহাটে ইউপি সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কালাই উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মো. রাসেদ মিয়া (৩১) সোমবার জয়পুরহাট আমলী-৫ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে দ্রুত এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—নয়াপাড়া গ্রামের মৃত কলিমদ্দিনের ছেলে ও উদয়পুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য নূরনবী সরকার (৪৬), একই গ্রামের ঘুটু মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম (৪০), কেরানীগঞ্জ উপজেলার বস্তা গ্রামের বাসিন্দা এমদাদ (৫৫) এবং অজ্ঞাত ঠিকানার বিপ্লব হোসেন (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাসেদ মিয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরনবী সরকারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন, যা সুদে-আসলে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকায়। ঋণের চাপের মধ্যে ঢাকায় কাজের খোঁজে যাওয়ার কথা বললে নূরনবী তাকে বাধা দিয়ে ভারতে ‘উচ্চ বেতনের চাকরি’ দেওয়ার প্রলোভন দেখান এবং নিজের খরচে পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে নূরনবীসহ চক্রের সদস্যরা রাসেদকে রোগীর সেবাকর্মী হিসেবে চাকরির কথা বলে কলকাতায় নিয়ে যান। সেখানে করোনা পরীক্ষা ও অন্যান্য মেডিকেল চেকআপের অজুহাতে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অচেতন অবস্থায় রাসেদের একটি কিডনি অপসারণ করে তা তৃতীয় আসামি এমদাদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
জ্ঞান ফেরার পর চক্রের সদস্যরা রাসেদকে জানায়, তার কিডনি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং তাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু দেশে ফেরার পর তিনি কোনো টাকা পাননি। বরং তার পাসপোর্ট ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৫ ডিসেম্বর একটি সালিশ বৈঠকে টাকা দাবি করলে আসামিরা তাকে হুমকি দিয়ে আরও একটি কিডনি অপসারণের ভয় দেখায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নূরনবী সরকার বলেন, “আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। যদি কিডনি অপসারণই হয়ে থাকে, তাহলে আগে কেন কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি?”
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিক বলেন, “আদালতের আদেশ এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মানব পাচার ও অঙ্গ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।


























