
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
স্টাফ রিপোর্টার:
২৬ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর সাপাহারের কৃতী সন্তান ও সাবেক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি বিচারিক জীবন থেকে অবসর নেন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এম এ সামাদও ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। এ কে এম আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আইন পেশায় যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। দীর্ঘ বিচারিক জীবনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
আইন পেশা ও বিচার বিভাগে দীর্ঘ কর্মজীবনের পর এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পেলেন এ কে এম আসাদুজ্জামান। তাঁর নিয়োগের খবরে সাপাহারসহ নওগাঁজুড়ে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সাপাহারের খঞ্জনপুর গ্রামের সন্তান এ কে এম আসাদুজ্জামানের দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো সাপাহার ও নওগাঁবাসীর জন্যও গৌরবের। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর নতুন দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।



























