০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষেতলালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 71

ছবির ক্যাপশনঃ

অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

নিজস্ব প্রতিনিধি, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাটঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরতা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করা এবং শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পুরোনো পোস্ট সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

তবে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

অভিযোগের সূত্রপাত বলাই মুখোপাধ্যায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো কয়েকটি শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা এবং সাবেক সভাপতি সাফি রাইহানকে প্রভাবিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পোস্টটিতে বিদ্যালয়ের চারটি শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়। পদগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও আয়া। অভিযোগকারীর দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজার স্ত্রী মোছা. আনগুয়ারা বেগম এবং অফিস সহায়ক পদে তাঁর শ্যালক মো. মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অতীতের তারিখ ব্যবহার করে গোপনে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগসংক্রান্ত কোনো নথি, আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত তথ্যও এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাইসাপেক্ষ।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীর বক্তব্য, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, “আমি অফিসের কাজে বাইরে থাকি। সব সময় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে সময় দিতে হয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাক্ষর করা হয় না।”

নিয়োগ-বাণিজ্য ও ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ এসব পোস্ট দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

জনপ্রিয়

জয়পুরহাট নুরানী মাদ্রাসা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

ক্ষেতলালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ছবির ক্যাপশনঃ

অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

নিজস্ব প্রতিনিধি, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাটঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরতা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করা এবং শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পুরোনো পোস্ট সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

তবে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

অভিযোগের সূত্রপাত বলাই মুখোপাধ্যায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো কয়েকটি শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা এবং সাবেক সভাপতি সাফি রাইহানকে প্রভাবিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পোস্টটিতে বিদ্যালয়ের চারটি শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়। পদগুলো হলো—পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও আয়া। অভিযোগকারীর দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজার স্ত্রী মোছা. আনগুয়ারা বেগম এবং অফিস সহায়ক পদে তাঁর শ্যালক মো. মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অতীতের তারিখ ব্যবহার করে গোপনে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগসংক্রান্ত কোনো নথি, আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত তথ্যও এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাইসাপেক্ষ।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীর বক্তব্য, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, “আমি অফিসের কাজে বাইরে থাকি। সব সময় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে সময় দিতে হয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাক্ষর করা হয় না।”

নিয়োগ-বাণিজ্য ও ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ এসব পোস্ট দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”