০৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সফল রিয়াদ, মুখে কলম ধরে দাখিল পাস

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 70

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

​এ. বি. এস. রতন স্টাফ রিপোর্টারঃ ২ আগস্ট ২০২৬

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে খাতার ওপর ঝুঁকে মুখে ধরা কলম দিয়ে ধীরে ধীরে অক্ষর লিখে সফলতা অর্জন করেছে রিয়াদ হোসেন। সহপাঠীরা যখন হাত দিয়ে লিখছিল, তখন দুই হাত না থাকা রিয়াদের একমাত্র ভরসা ছিল মুখ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। রিয়াদ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে।

​রিয়াদের কাছে এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং জীবনসংগ্রামের এক বড় জয়। ছোটবেলা থেকেই দুই হাত না থাকায় সাধারণ কাজগুলোর জন্য তাকে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে হয়েছে। মুখে কলম ধরে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে সে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সে কখনো থমকে যায়নি; বরং নিজের ইচ্ছাবল ও প্রচেষ্টায় সব বাধা অতিক্রম করেছে।

​মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, পড়াশোনার প্রতি রিয়াদের আগ্রহ ছিল প্রবল। শুরুতে মুখে কলম ধরে লিখতে অসুবিধা হলেও অনুশীলনের মাধ্যমে সে নিজেকে মানিয়ে নেয়। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও কঠোর পরিশ্রমে আজ সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার এই অর্জনে পরিবার ও শিক্ষকেরা দারুণ উচ্ছ্বসিত।
​উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে রিয়াদ।

সে জানায়, নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায় সে।
​বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, “রিয়াদ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। মুখে কলম ধরে লিখে দাখিল পাস করে সে তা প্রমাণ করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

​নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মুর্শিদা খাতুন রিয়াদের এই অর্জনকে প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রিয়াদকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

জয়পুরহাট নুরানী মাদ্রাসা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সফল রিয়াদ, মুখে কলম ধরে দাখিল পাস

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

​এ. বি. এস. রতন স্টাফ রিপোর্টারঃ ২ আগস্ট ২০২৬

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে খাতার ওপর ঝুঁকে মুখে ধরা কলম দিয়ে ধীরে ধীরে অক্ষর লিখে সফলতা অর্জন করেছে রিয়াদ হোসেন। সহপাঠীরা যখন হাত দিয়ে লিখছিল, তখন দুই হাত না থাকা রিয়াদের একমাত্র ভরসা ছিল মুখ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ২.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। রিয়াদ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে।

​রিয়াদের কাছে এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং জীবনসংগ্রামের এক বড় জয়। ছোটবেলা থেকেই দুই হাত না থাকায় সাধারণ কাজগুলোর জন্য তাকে বিকল্প পথ খুঁজে নিতে হয়েছে। মুখে কলম ধরে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলে সে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সে কখনো থমকে যায়নি; বরং নিজের ইচ্ছাবল ও প্রচেষ্টায় সব বাধা অতিক্রম করেছে।

​মাদ্রাসার শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, পড়াশোনার প্রতি রিয়াদের আগ্রহ ছিল প্রবল। শুরুতে মুখে কলম ধরে লিখতে অসুবিধা হলেও অনুশীলনের মাধ্যমে সে নিজেকে মানিয়ে নেয়। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও কঠোর পরিশ্রমে আজ সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার এই অর্জনে পরিবার ও শিক্ষকেরা দারুণ উচ্ছ্বসিত।
​উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে রিয়াদ।

সে জানায়, নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায় সে।
​বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, “রিয়াদ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। মুখে কলম ধরে লিখে দাখিল পাস করে সে তা প্রমাণ করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

​নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মুর্শিদা খাতুন রিয়াদের এই অর্জনকে প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রিয়াদকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।