
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
বগুড়া প্রতিনিধিঃ ৯ আগস্ট ২০২৬
সড়ক সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজে এতদিন উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষকে রংপুরে যেতে হতো। সেই ভোগান্তি কমাতে বগুড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নতুন সড়ক জোন। এখন বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলার সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বগুড়া থেকেই পরিচালিত হবে।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৪টায় বগুড়া সড়ক জোনের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ সড়ক জোনের আওতায় বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ জেলার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ, প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে রংপুরে যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সড়ক উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম আরও দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধন শেষে সড়ক ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
শাহ ফতেহ আলী সেতুর উদ্বোধন
এর আগে একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত শাহ ফতেহ আলী সেতুর উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মিত সেতুটি বগুড়া জেলার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সেতুটি চালু হওয়ায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জেলা শহরে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৬ টাকা ২০ পয়সা ব্যয়ে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ মে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং মেয়াদ বাড়ানোর পর গত বছরের ৩১ জানুয়ারি কাজ শেষ হয়।
আরসিসি ও পিসি গার্ডার নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৮ দশমিক ৭৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার। সেতুর দুই পাশে দুই মিটার করে মোট চার মিটার প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শাহ ফতেহ আলী সেতু চালু হওয়ায় বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের চার উপজেলার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য দ্রুত জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



























