১১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব ভবন সংকটে বিআরটিএ, সেবাবঞ্চনা ও রাজস্ব ঘাটতির অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 71

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

সাজ্জাদুল বারী, জেলা প্রতিনিধিঃ ২৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা পর্যায়ের কার্যক্রমে অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক জেলায় সংস্থাটির নিজস্ব ভবন ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সীমিত পরিসরে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে যানবাহন নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিআরটিএর কার্যক্রমের পরিধি দিন দিন বাড়লেও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। কোথাও কোথাও সরকারি ভবনের সীমিত জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তাদের উভয়কেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

নিজস্ব অবকাঠামোর অভাবে পরীক্ষায় সীমাবদ্ধতা

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর অভাবে জেলা পর্যায়ে চালকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুযোগ সীমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই শুধু লাইসেন্স প্রদান নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং এবং বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

রাজস্ব আদায়ে সম্ভাবনার ঘাটতি

বিআরটিএর মাধ্যমে যানবাহন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এসব সেবার সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণের বিষয়টিও সরাসরি সম্পৃক্ত।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, জেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিআরটিএ কার্যালয় স্থাপন করা গেলে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিবন্ধনের বাইরে থাকা যানবাহন শনাক্ত, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চিহ্নিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বা অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ না করা যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর মনিটরিং জোরদার করা সম্ভব হবে।

প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত মনিটরিং

সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা পর্যায়ে বিআরটিএ কার্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। স্বয়ংক্রিয় ডাটাবেজ, ডিজিটাল মনিটরিং, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি অনিয়ম নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনকে নিয়মিত নজরদারির আওতায় এনে নিবন্ধন ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়তে পারে।

জেলা পর্যায়ে স্থায়ী অবকাঠামোর দাবি

সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে প্রতিটি জেলায় বিআরটিএর জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ নিজস্ব কার্যালয়, ড্রাইভিং পরীক্ষার মাঠ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং আধুনিক যানবাহন পরিদর্শন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভবনের পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ডিজিটাল সেবা এবং নিয়মিত তদারকি। এসব ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে জনগণের সেবা সহজ হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণও বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিআরটিএ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

তবে জেলা পর্যায়ে বিআরটিএর নিজস্ব ভবন, জনবল, অবকাঠামো ও রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলে সমস্যাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

জয়পুরহাট নুরানী মাদ্রাসা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

নিজস্ব ভবন সংকটে বিআরটিএ, সেবাবঞ্চনা ও রাজস্ব ঘাটতির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

সাজ্জাদুল বারী, জেলা প্রতিনিধিঃ ২৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা পর্যায়ের কার্যক্রমে অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক জেলায় সংস্থাটির নিজস্ব ভবন ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সীমিত পরিসরে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে যানবাহন নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিআরটিএর কার্যক্রমের পরিধি দিন দিন বাড়লেও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। কোথাও কোথাও সরকারি ভবনের সীমিত জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তাদের উভয়কেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

নিজস্ব অবকাঠামোর অভাবে পরীক্ষায় সীমাবদ্ধতা

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর অভাবে জেলা পর্যায়ে চালকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুযোগ সীমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই শুধু লাইসেন্স প্রদান নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং এবং বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

রাজস্ব আদায়ে সম্ভাবনার ঘাটতি

বিআরটিএর মাধ্যমে যানবাহন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এসব সেবার সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আহরণের বিষয়টিও সরাসরি সম্পৃক্ত।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, জেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিআরটিএ কার্যালয় স্থাপন করা গেলে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিবন্ধনের বাইরে থাকা যানবাহন শনাক্ত, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চিহ্নিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বা অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ না করা যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর মনিটরিং জোরদার করা সম্ভব হবে।

প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত মনিটরিং

সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা পর্যায়ে বিআরটিএ কার্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। স্বয়ংক্রিয় ডাটাবেজ, ডিজিটাল মনিটরিং, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি অনিয়ম নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনকে নিয়মিত নজরদারির আওতায় এনে নিবন্ধন ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়তে পারে।

জেলা পর্যায়ে স্থায়ী অবকাঠামোর দাবি

সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে প্রতিটি জেলায় বিআরটিএর জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ নিজস্ব কার্যালয়, ড্রাইভিং পরীক্ষার মাঠ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং আধুনিক যানবাহন পরিদর্শন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভবনের পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ডিজিটাল সেবা এবং নিয়মিত তদারকি। এসব ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে জনগণের সেবা সহজ হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণও বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিআরটিএ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

তবে জেলা পর্যায়ে বিআরটিএর নিজস্ব ভবন, জনবল, অবকাঠামো ও রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলে সমস্যাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।