
ছবির ক্যাপশন:
স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তন, মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ ও পরিবেশগত ঝুঁকির প্রভাব মোকাবিলায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পিপলস ইউনিয়ন অব দি মারজিনালাইজড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (পামডো)। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী নারী, কৃষক ও যুবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘পামডো-এনগেজ’ প্রকল্প।
‘এনভায়রনমেন্টাল হিউম্যান রাইটস ফর আ জাস্ট ট্রানজিশন: স্ট্রেংথেন্ড লোকাল সি-এস-ওস ট্রান্সফর্মিং ক্লাইমেট হটস্পটস ইনটু রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটিজ (এনগেজ)’ শীর্ষক প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্প চলবে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ধলাহার, দোগাছী ও ভাদসা ইউনিয়নকে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এর আওতায় সরাসরি প্রায় ৫৯০টি পরিবার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ মানুষ উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
পামডো সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগকে শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে আদিবাসী নারী, কৃষক ও যুবকদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরি, নেটওয়ার্কিং এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা। এর আওতায় আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জীবিকার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ ও জলবায়ুজনিত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু জলবায়ু ও পরিবেশ নয়, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও কাজ করবে প্রকল্পটি। এ জন্য সাংস্কৃতিক দল গঠন, বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পার্বণ আয়োজন এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পামডোর সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হৈমন্তী সরকার। জেনারেল ম্যানেজার ও কমিউনিটি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে রয়েছেন মো. শাহাবুর রহমান। কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুমি রাণী ও বিমল চন্দ্র পাহান।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট এখন শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাও সরাসরি জড়িত। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে জয়পুরহাট সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে জলবায়ু সহনশীল ও সচেতন জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























