১০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সদর থানা উচ্চ বিদ্লয় সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

জয়পুরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবারের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

  • প্রকাশের সময় : ০২:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 75

জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আল-মামুন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাটঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী চলমান ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাটে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্ন করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আল-মামুন মিয়া। এ সময় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, জয়পুরহাট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্টরা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, সড়কের পাশ, নালা-নর্দমা ও আশপাশের স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ রোগের বিস্তার রোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকা পরিষ্কার করা নয়, বরং জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাইকে আহ্বান জানান—নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

আসুন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যার যার চারপাশ পরিষ্কার রাখি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখি।

জনপ্রিয়

জয়পুরহাট নুরানী মাদ্রাসা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

সদর থানা উচ্চ বিদ্লয় সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

জয়পুরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবারের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশের সময় : ০২:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আল-মামুন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাটঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী চলমান ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাটে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্ন করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আল-মামুন মিয়া। এ সময় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, জয়পুরহাট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্টরা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, সড়কের পাশ, নালা-নর্দমা ও আশপাশের স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ রোগের বিস্তার রোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকা পরিষ্কার করা নয়, বরং জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাইকে আহ্বান জানান—নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন, কোথাও পানি জমতে দেবেন না এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

আসুন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যার যার চারপাশ পরিষ্কার রাখি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখি।