০৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁয় আপন বোনকে হত্যা: ভাই-ভাবিসহ গ্রেফতার ৫, নেপথ্যে স্বর্ণালঙ্কার, জমি ও মাদকের বিরোধিতা

  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • 22

ছবির ক্যাপশন

​এ. বি. এস রতন স্টাফ রিপোর্টারঃ ২১ আগস্ট ২০২৬

কানের স্বর্ণের দুল, গবাদিপশুর লোভ এবং এলাকায় মাদকের প্রতিবাদ করায় আপন ছোট ভাই ও ভাবির নির্মম চক্রান্তের শিকার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন হালিমা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও ভাবি হোসনে আরা (৪২)-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড় ১১টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

​গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) এবং মোশারফ হোসেন (৪৫)। গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ১৯ অক্টোবর সকালে উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানের জমির আইলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় যে, নিহত বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা এবং অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে।

​ঘটনার পরপরই ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে নিহতের ছোট ভাই মজনু ও তার স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অন্য তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

​পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান হালিমা বেগম বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর ঘরের পেছনে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গবাদিপশু (গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি) পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরেই মজনু ও তার স্ত্রীর নজর ছিল।

​এছাড়া, এলাকায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় আসামি রবিউল এবং জমিজমা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে হামিদুর ও মোশারফ হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এসব ক্ষোভ ও লোভ থেকে ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন পূর্বে আসামিরা একত্রিত হয়ে হালিমাকে হত্যার নজিরবিহীন নীল নকশা তৈরি করে।

​পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামি হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে। তিনি বাইরে বের হওয়া মাত্রই আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে রশি দিয়ে তার হাত বেঁধে এবং পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

​হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর কানের সোনা খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর নির্মমভাবে বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ফেলে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে দুল দুটি খুলে নেয়। পরবর্তীতে মরদেহটি পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে আসামিরা স্বর্ণের দুল ভাগ-বাটোয়ারা করে পালিয়ে যায়।

​পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

জয়পুরহাট নুরানী মাদ্রাসা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

নওগাঁয় আপন বোনকে হত্যা: ভাই-ভাবিসহ গ্রেফতার ৫, নেপথ্যে স্বর্ণালঙ্কার, জমি ও মাদকের বিরোধিতা

প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ছবির ক্যাপশন

​এ. বি. এস রতন স্টাফ রিপোর্টারঃ ২১ আগস্ট ২০২৬

কানের স্বর্ণের দুল, গবাদিপশুর লোভ এবং এলাকায় মাদকের প্রতিবাদ করায় আপন ছোট ভাই ও ভাবির নির্মম চক্রান্তের শিকার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন হালিমা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও ভাবি হোসনে আরা (৪২)-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড় ১১টায় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

​গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) এবং মোশারফ হোসেন (৪৫)। গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ১৯ অক্টোবর সকালে উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানের জমির আইলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় যে, নিহত বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা এবং অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে।

​ঘটনার পরপরই ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে নিহতের ছোট ভাই মজনু ও তার স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অন্য তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

​পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান হালিমা বেগম বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর ঘরের পেছনে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গবাদিপশু (গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি) পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরেই মজনু ও তার স্ত্রীর নজর ছিল।

​এছাড়া, এলাকায় মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় আসামি রবিউল এবং জমিজমা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে হামিদুর ও মোশারফ হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এসব ক্ষোভ ও লোভ থেকে ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন পূর্বে আসামিরা একত্রিত হয়ে হালিমাকে হত্যার নজিরবিহীন নীল নকশা তৈরি করে।

​পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামি হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে। তিনি বাইরে বের হওয়া মাত্রই আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে রশি দিয়ে তার হাত বেঁধে এবং পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

​হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর কানের সোনা খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর নির্মমভাবে বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ফেলে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে দুল দুটি খুলে নেয়। পরবর্তীতে মরদেহটি পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে আসামিরা স্বর্ণের দুল ভাগ-বাটোয়ারা করে পালিয়ে যায়।

​পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।