
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ১৭ আগস্ট ২০২৬
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে আটক করে মারধরের পর নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাদশা মিয়া (২৫) নামে এক তরুণ নিহত হওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওয়ার বিলের কাঁচা রাস্তা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে অপর এক তরুণকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ জানায়, তিনি মো. বাদশা মিয়া (২৫)। তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর আদর্শগ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে। আহত তরুণ মো. মাজেদুল ইসলাম (১৮) একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার মেসার্স জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে রাখা একটি বাসের ছাদে থাকা স্পেয়ার চাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন বাদশা ও মাজেদুল। এ সময় বাসের চালক রফিকসহ ফিলিং স্টেশনের লোকজন তাদের চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে শান্তর নেতৃত্বে কয়েকজন আবারও ওই দুই তরুণকে আটক করেন। তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরের শিকার হয়ে বাদশা মিয়া মারা যান। অপর তরুণ মাজেদুলকে মৃত মনে করে তাকে বাদশার সঙ্গে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওয়ার বিলের কাঁচা রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে এলে পুলিশ সুপার, জয়পুরহাটের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের অভিযানে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
























