
ছবিঃ সীমান্তের আওয়াজ
উপজেলা প্রতিনিধি ক্ষেতলাল জয়পুরহাট৷
২৫ আগস্ট ২০২৬
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নে ফাজেল নামের এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাকিবের বাবা শাহিন ও মা রহিমা বিবিকে মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটুর বিরুদ্ধে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী রাকিব হোসেনের বাবা শাহিন ও মা রহিমা বিবি উপজেলার দক্ষিণ বস্তা বাসতা গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে, গত ২৪ আগস্ট রাত ১১টায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের ফাজেল নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় রাকিব হোসেনের ফোনে ফাজেলের স্ত্রী সহযোগিতা চাইলে তার স্ত্রীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন রাকিব হোসেন৷ গত ২৩ আগস্ট দুপুরে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাজেলকে মোটরসাইকেলসহ উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।
এরপর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের জেরে ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বস্তা বাসতা গ্রামে রাকিবের বাড়িতে খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায় এ সময় রাকিবের বাবা-মাকে মারধর এবং তার ছোট ভাইয়ের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলা কারিরা৷
এ বিষয়ে রাকিব হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার ফাজেল নামের একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হয় তার স্ত্রী আমাকে ফোন করে পরামর্শ চান আমি শুধু বলেছি,স্বামী নিখোঁজ হয়েছে, আইনের আশ্রয় নেন। এ কথা বলার কারণে খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ভাইয়ের একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। পরে স্থানীয়রা আমার বাবা-মাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমান আমার বাবা মা চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে থানায় গিয়ে এজাহার দাখিল করব।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটু তিনি বলেন, আমার নিজগ্রাম বাসতা রাকিবের বাড়িও একই গ্রামে। আমি বা আমার কোনো লোক তাদের ওপর হামলা করিনি। বরং তারাই আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তা প্রতিহত করেছি। তারা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























