
ছবিঃ সংগৃহীত
ডেক্স রিপোর্টঃ সোমবার ৪ জুলাই ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। গতকাল রবিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ উপলক্ষে ৫ আগস্ট মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকে একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘ছত্রিশ জুলাই গত বছর এই দিনে পৃথিবী দেখেছিল এক অভাবনীয় গণঅভ্যুত্থান। যার ফলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট। বহু শহীদের রক্ত এবং যোদ্ধাদের ত্যাগের পথ ধরে পুরো বাংলাদেশ এক হয়েছিল। পথে পথে ছিল উল্লাসমুখর জনতার জোয়ার।’ এতে আরো বলা হয়, “এক বছর পর আবার ফিরে এসেছে ছত্রিশ জুলাই। এই দিনে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতির আকাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজন থাকছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে। আসুন, আমরা সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে যোগ দিই ‘ছত্রিশ জুলাই’ উদযাপনে। আমাদের ইতিহাস, আমাদের গৌরব।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের সব অংশীদারদের উপস্থিতিতে জাতির সামনে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করা হবে। ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকার বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে খসড়া তৈরি করছে। আগের দিন শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল এ জুলাই ঘোষণাপত্র। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্রের দাবি জানানো হয়। অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি সামনে রেখে সম্প্রতি জুলাই ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলকে পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার।
ঘোষণাপত্রের খসড়ায় ২৬টি দফা রয়েছে। প্রথম ২১ দফায় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের মানুষের অতীতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।


























